ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনাক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন: পরিচয় মিলেছে ৮ জনের।

রায়েরবাজারে গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০১:০৬:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০১:০৬:৪৮ অপরাহ্ন
রায়েরবাজারে গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের


বিশেষ প্রতিনিধি: মাহফুজুর রহমান 

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত এবং রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফনকৃত শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিআইডি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টিম দীর্ঘ ২০ দিনের প্রচেষ্টায় ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিআইডি (বাংলাদেশ পুলিশ) এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে। কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সহায়তায় বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ড. মরিস টিডবল-বিনজ সিআইডির ফরেনসিক ও ডিএনএ টিমকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। মাঠ পর্যায়ে মরদেহ উত্তোলনের মূল কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফনডেব্রাইডার-এর নেতৃত্বে এবং বিশ্বখ্যাত ‘মিনেসোটা প্রোটোকল’ অনুসরণ করে।

 মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ ডায়েরি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ প্রদান করেন।
 রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হয়।
 প্রতিটি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ ও কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত নিখোঁজ শহীদদের পরিবারের মধ্য থেকে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে। সংগৃহীত নমুনার সাথে মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ জন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি শহীদদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা শহীদদের পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূর হচ্ছে এবং তারা তাদের প্রিয়জনের লাশের হদিস পাচ্ছে। এছাড়া, ফরেনসিক প্রমাণের এই বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী নথি হিসেবে কাজ করবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও মর্যাদার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ শহীদদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিকটস্থ সিআইডি কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে ডিএনএ নমুনা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ