আ. লীগ সরকারের আস্থাভাজন
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা এখনো বহাল তবিয়তে!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-০১-২০২৬ ০৩:৪৭:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-০১-২০২৬ ০৩:৪৭:৫২ অপরাহ্ন
মো.শামছুদ্দোহার
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো.শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার–ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প অনুমোদন, বাজেট বণ্টন এবং প্রাক্কলন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও অনুমোদনকে ঘিরে অসঙ্গতি, প্রভাব–বিস্তার ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তার বিরুদ্ধে লুটপাট ও দুর্নীতির এত অভিযোগ থাকার পর এবং তিনি আওয়ামী সরকারের একজন অত্যন্ত ঘণিষ্ঠজন হওয়ার পরেও স্বপদে কীভাবে বহাল রয়েছেন বলে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীদের।
সূত্রগুলোর দাবি, সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বড় আকারের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয় তার হাত ধরেই। দরপত্রের প্রাক্কলন, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সময় একটি সিন্ডিকেটের বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ময়মনসিংহ জোনে দায়িত্ব পালনকালে মডেল মসজিদ প্রকল্প, বিভিন্ন ডিভিশনের এপিপি বরাদ্দ, এবং প্রাক্কলন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করেছেন তিনি। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বাজেট বৃদ্ধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র।
কিছু কাজে এলটিএমের বদলে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে কাজ দেওয়া এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবও এসব সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল। বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা নামে–বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। কয়েকটি সূত্র জানায়, বসুন্ধরা ও বারিধারায় তার ফ্ল্যাট, জামালপুরের শরিষাবাড়িতে বাড়ি এবং রিসোর্ট নির্মাণের জন্য জমি রয়েছে।
সূত্র বলছে, ছাত্রজীবনে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ ও পরে বুয়েটে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাছাড়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সীর আত্মীয় হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
শামছুদ্দোহাকে ঘিরে টেন্ডার–বাণিজ্য, প্রকল্প অনুমোদন ও বাজেট–অসঙ্গতির অভিযোগ চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় তদবির করেছিলেন। তবে সূত্র বলছে—বহুমুখী দৌঁড়ঝাপ ও যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হন।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকের অভিমত, 'তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচারসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। যে কারণে, তাকে চাকরিচ্যুত এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।' এছাড়া, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি অনুরোধ জানান তারা। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য তার দপ্তরে গেলে তাকে পাওয় যায়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স