ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​৫ কোটির পাইপ ১৯ লাখে বিক্রি

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৩-০২-২০২৬ ০৪:০৮:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-০২-২০২৬ ০৪:০৮:৪৯ অপরাহ্ন
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের



নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অব্যবহৃত পাইপ গোপন টেন্ডারে আওয়ামী লীগ নেতার কাছে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী আজগর এ ঘটনার তদন্তে আসেন। তিনি বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানির পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করতে আসছি। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের জোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

বুধবার তদন্ত কমিটি নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনের জনস্বাস্থ্যের আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারের গোডাউনে গিয়ে বেশ কিছু পাইপ দেখতে পায়। খবর নিয়ে জানা গেছে, রাতের আঁধারে অনেক মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও জানাজানির পর এগুলো এখনো সরিয়ে নিতে পারেনি।


এরআগে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা থেকে পুলিশ গেলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসেননি।


ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজের লাইসেন্সে নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব আপেল বলেন, নোয়াখালীবাসীর কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অফিসের লোকজন গোপনে পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে লোকজন অফিস রেখে পালিয়ে যান। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পরে ওই টেন্ডার বাতিলের আশ্বাসও দেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)  ‘গোপন টেন্ডারে ৫ কোটির পাইপ ১৯ লাখে নিলেন আ’লীগ নেতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ