ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালট বক্সে বাঙালির ভাগ্য: ত্রয়োদশ নির্বাচন কি পারবে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা আঁকতে?

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৮:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৮:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন
ব্যালট বক্সে বাঙালির ভাগ্য: ত্রয়োদশ নির্বাচন কি পারবে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা আঁকতে? জাতীয় সংসদ নির্বাচন
বিশেষ প্রতিনিধি :মাহফুজুর রহমান. দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক পরিবর্তনের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসব আর উৎকণ্ঠার এক মিশ্র আবহ। প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভোট দিতে যাচ্ছেন দেশের ১২ কোটি ৭০ লক্ষাধিক ভোটার। প্রশ্ন উঠেছে—এই নির্বাচন কি পারবে এক নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ভিত গড়ে দিতে? ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন গতানুগতিক ধারার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। চার মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের লড়াই প্রধানত দ্বিমুখী। একদিকে রয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি, অন্যদিকে জামায়াত- ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী জোট। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৯ সালের পর এটাই দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি 'জুলাই সনদ'-এর ওপর আয়োজিত সাংবিধানিক গণভোট। রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার, উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার মতো যুগান্তকারী প্রস্তাবগুলো সাধারণ মানুষের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই গণভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশ কি একটি 'দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের' দিকে যাবে কি না। এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে 'জেনারেশন জেড' বা তরুণ প্রজন্ম। প্রায় ২ কোটিরও বেশি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। তাদের কাছে দলীয় আদর্শের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর থাকলেও রাজনৈতিক মহলে কিছু শঙ্কা রয়েই গেছে। নির্বাচনী সহিংসতা রোধ, কালো টাকার প্রভাব বন্ধ এবং একটি স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এই রূপান্তরের প্রক্রিয়া। বাঙালি জাতির ভাগ্য এখন দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই হবে বিজয়ী সরকারের প্রধান কাজ। তেরোতম এই নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মর্যাদাকে পুনরুদ্ধার করার পরীক্ষা। জনগণ আশা করছে, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এমন এক শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ