ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার ও নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ: দায়বদ্ধতা নাকি পলায়নপরতা?

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ১২:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ১২:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন
সংস্কার ও নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ: দায়বদ্ধতা নাকি পলায়নপরতা? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে
বিশেষ প্রতিনিধি: মাহফুজুর রহমান. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি চিরচেনা অথচ নেতিবাচক প্রবণতা হলো সংকটের সময় নেতৃত্বে আসা এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখলে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানো। এই ‘পলায়নপর সংস্কৃতি’ নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান ব্যবস্থার নীতিনির্ধারকদের নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। এই অবস্থায় সংস্কার সম্পন্ন না করে কিংবা নির্বাচনি রোডম্যাপ বাস্তবায়ন না করে প্রস্থান করার পথ বেছে নেওয়াকে রাষ্ট্রের সাথে বড় ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজপথে শত শত তরুণের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সাধারণ মানুষ মনে করছে, তরুণ প্রজন্ম তাদের রক্ত দিয়ে পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, সেই সুযোগকে অর্থবহ করা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের নৈতিক দায়িত্ব। আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে যদি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কোনো অজুহাতে প্রস্থান করেন, তবে তা হবে তরুণদের ত্যাগের চরম অবমাননা। সাধারণ জনগণের মতে, অতীতে অনেক নেতা সংকটের সময় জনগণকে বিপদে ফেলে বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তনের কারিগরদের কাছে মানুষ ভিন্ন কিছু আশা করে। জনগণের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ না করে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে প্রস্থান করা কি সরাসরি ‘বেইমানি’ নয়? নীতিনির্ধারকরা যদি মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন, তবে ভবিষ্যতের তরুণরা নেতৃত্বের প্রতি চিরতরে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। সংস্কার অসমাপ্ত রেখে প্রস্থান করলে রাষ্ট্র আবার পুরনো অরাজকতার বৃত্তে ফিরে যেতে পারে। ইতিহাসের পাতায় এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জনগণ এখন কেবল আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আপসহীন থাকা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাকেই দেশপ্রেমের প্রকৃত পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বর্তমান নীতিনির্ধারকরা কি ইতিহাসের ইতিবাচক নায়ক হয়ে থাকবেন, নাকি পুরনো ‘পলায়নপর’ ধারায় গা ভাসিয়ে বেইমানির তকমা গায়ে মাখবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বার্তা শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করার অধিকার কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ