ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​প্রধানমন্ত্রী যখন খাল খননের মহাপরিকল্পনায়, গাজীপুরে তখন উল্টো চিত্র: কর্মকর্তা ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে নদী ভরাট।

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৪:৩৫:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৪:৩৫:১০ অপরাহ্ন
​প্রধানমন্ত্রী যখন খাল খননের মহাপরিকল্পনায়, গাজীপুরে তখন উল্টো চিত্র: কর্মকর্তা ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে নদী ভরাট। প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল


 এস রহমান, 

যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেখানে গাজীপুরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য যখন কৃষি সেচ নিশ্চিত করা এবং দেশকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা, ঠিক সেই সময় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার চক্রবর্তী এলাকায় চলছে নদী ও সরকারি খাল চুরির মহোৎসব।

সরকারি খাতা-কলমে নদী ও খাল থাকলেও বাস্তবে সেখানে চলছে বালু ভরাটের তণ্ডব। অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮-এর কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই ভূমিদস্যুরা নদী ভরাট করে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাশিমপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ১২৫ নং দাগের সরকারি খাল ও নদীটি ভূমিদস্যুরা ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাট করছে। 'প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০' অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় ভূমি অফিস ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


এই নগ্ন দখলের বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মোঃ মনোয়ার হোসেন, কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তিনি দায়সারাভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে, সার্ভেয়ার মো: মোশারফ হোসেনের ভূমিকা আরও রহস্যজনক। একাধিকবার স্থান পরিদর্শন করলেও তিনি আজ অবধি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে বলেন, "এখনো প্রতিবেদন দিইনি, আগামী সপ্তাহে দেব।" স্থানীয়দের অভিযোগ, সার্ভেয়ারের এই কালক্ষেপণ মূলত দখলদারদের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার এবং নদীর বুক চিরে ইমারত তৈরির সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে।

প্রধান অভিযুক্ত দখলদার মো. সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে চরম ঔদ্ধত্য দেখান। নদীকে নিজের 'ক্রয়কৃত সম্পত্তি' দাবি করে তিনি প্রতিবেদককে রাগান্বিত ভাষায় বলেন, "আসেন, আমার সম্পত্তির মধ্য দিয়ে ঘুরে যান।" ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এমন বক্তব্য প্রমাণ করে যে, স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ সরাসরি এই অপরাধের সহযোগী।

ইতিমধ্যেই  এক সচেতন নাগরিক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এর অনুলিপি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভরাট কার্যক্রমের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাশিমপুর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত 'জলাবদ্ধতা মুক্ত বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্নের পরিপন্থী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে নদীমাতৃক গৌরবে ফিরিয়ে নিতে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, তখন গাজীপুরের এই 'সরকারি চোরদের' আস্ফালন সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই দখল উচ্ছেদ করে নদী রক্ষা করা হোক এবং জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ