ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​নর্দান ইউনিভার্সিটিতে সংবাদকর্মীদের ডেকে নিয়ে অযথা হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন
​নর্দান ইউনিভার্সিটিতে সংবাদকর্মীদের ডেকে নিয়ে অযথা  হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহের
                       

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা



​রাজধানীর নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমন্ত্রিত সংবাদকর্মীদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে হয়রানি ও পরবর্তীতে হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনভর এই ‘নাটকীয়’ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
​ঘটনার সূত্রপাত
​জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় কর্তৃপক্ষ। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হন। সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষ করে দুপুর নাগাদ সাংবাদিকরা ফিরে যেতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ‘সুব্যবস্থা’ করার কথা বলে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।
​অপেক্ষার নামে হয়রানি
​অপেক্ষা করতে করতে সকাল গড়িয়ে বিকাল ৫টা বাজলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সংবাদকর্মীদের বসিয়ে রাখায় সেখানে এক অসহজ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হন।
​মিডিয়া সেলের বিতর্কিত ভূমিকা
​ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন এবং মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কবির হোসেনের সাথে কথা বলতে বলেন।
​পরবর্তীতে কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমাদের সময় ও যুগান্তরসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সব পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন বলে দাবি করেন এবং প্রিন্সিপালকে কেন ফোন করা হয়েছে তা নিয়ে চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার আচরণ ছিল 'গরম তেলে পানি পড়ার' মতো আক্রমণাত্মক। একজন মিডিয়া সেল কর্মকর্তার এমন 'ভক্ষক' সুলভ আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে যান।
​সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
​এই অমানবিক কর্মকাণ্ডে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক রোমান সানজু। তিনি জানান:
​"পেশাগত কারণে আমরা বিভিন্ন স্থানে যাই, কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও হয়রানিমূলক আচরণ মোটেও কাম্য নয়। দাওয়াত দিয়ে এনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে হেনস্তা করা এবং উল্টো হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।"
​নতুন করে আলোচনায় সাংবাদিক হয়রানি
​বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদান ও হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নর্দান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া সেল নিয়ন্ত্রক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এই হুমকির অভিযোগ সাংবাদিক মহলে নতুন করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ