প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের কাছে নৌপথ জিম্মি!
শত কোটি টাকার খনন প্রকল্পে সুফল নেই—কাগজে খনন, বাস্তবে নাব্যতা সংকট; ড্রেজিং কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৫-০৪-২০২৬ ০১:২০:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-০৪-২০২৬ ০১:২০:২২ অপরাহ্ন
প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা ও নৌপথ সচল রাখতে প্রতি বছর শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম। তার অধীন পরিচালিত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরিচা-কাজীরহাট, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, ভৈরব-আশুগঞ্জ ও মোংলা-ঘষিয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নাব্যতার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। নৌযান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খননের পর অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় পলি জমে নৌপথ আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রমে জ্বালানি ব্যবহার ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ড্রেজার বন্ধ থাকলেও কাগজে জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। এতে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া, নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত মাটি নদীর নির্ধারিত দূরত্বে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে একই স্থানে বারবার পলি জমে পুনরায় খননের প্রয়োজন হচ্ছে—যা প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সরকারি ড্রেজার বহর থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে একদিকে ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায়ই নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ আটকে পড়ছে, যার ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ড্রেজিং কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ও কঠোর তদারকি ছাড়া ড্রেজিং কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, নদী খননে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নৌপথে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় “নৌপথ জিম্মি” হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ এখন জনমনে জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স