১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথে যাত্রার একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা যেতে পারে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় এই নির্বাচনে অনেক আসনেই জয়-পরাজয়ে ভূমিকা পালন করেন দলটির প্রথাগত ভোটাররা।
এ বাস্তবতায় নির্বাচনটিকে ‘বামে হেলে পড়ার’ নির্বাচন বলেও চিহ্নিত করা যায়। কেননা, নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যডানপন্থী বিএনপির সঙ্গে ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের। নির্বাচনে কৌশলগতভাবেই নিজস্ব ভোটব্যাংকের সঙ্গে বিএনপি বাম, লিবারেল, সেক্যুলার এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভোট টানার চেষ্টা করে।
ফলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো অর্থনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, আইনের শাসন, সবার সমান নাগরিক অধিকারের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীকেও এবারের নির্বাচনে ইসলামিক দলের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে অর্থনৈতিক সংস্কারসহ ‘মূলধারার’ রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠার একটি প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসন ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামীও দলটির গোটা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসন ও ভোট পেয়েছে। জুলাই অধ্যাদেশ, গণভোট ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করে কি না—সেই প্রশ্ন ও সংশয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই দেখা গিয়েছিল।
যা-ই হোক, বিরোধী দলের কয়েক দফা ওয়াকআউট ছাড়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে ইতিবাচক একটি সংসদের দেখা মিলল প্রথম অধিবেশনে। তবে ঘটনাবহুল প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে বেশ কিছু সংস্কার থমকে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্যে কী ঘটবে তার জন্য ডেডলাইন ছিল ১০ এপ্রিল। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে তোলা হয়েছিল। সরকারি দল ও বিরোধী দল নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণে।