প্রেম ও ব্ল্যাকমেইলের করুণ পরিণতি। রাজধানীর কলেজছাত্রী রিসিকার আত্মহত্যা, বিচারের দাবিতে পরিবার।
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৬-০৪-২০২৬ ০৯:৩১:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৪-২০২৬ ০৯:৩১:৪০ অপরাহ্ন
কলেজছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার
মাহফুজুর রহমান :
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শ্যামলীতে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রিসিকা (ছদ্মনাম) ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সহপাঠীর দীর্ঘদিনের ব্ল্যাকমেইল, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ তারিখ শ্যামলীর ২ নম্বর রোডের নিজ বাসায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রিসিকা। নিহতের বাবা বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মায়ের দেখা সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে একটি ফোনকল ও আপত্তিকর ভিডিওর কেন্দ্র করে চলা মানসিক চাপে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার মূল হোতা রিসিকার সহপাঠী ও একই কলেজের ছাত্র তাহমিদ। নবম শ্রেণি থেকে তাদের মধ্যে পরিচয় থাকলেও, পরবর্তীকালে তাহমিদ মাদক ও গ্যাং-সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ায় রিসিকা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি হাতিয়ে নিয়ে তাহমিদ দীর্ঘ দিন ধরে রিসিকাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।
রিসিকার মৃত্যুর পর শেরেবাংলা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অভিযুক্ত তাহমিদ এবং তার মা যিনি একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চ্যাটিং হিস্ট্রিতে ব্ল্যাকমেইলের অকাট্য আলামত থাকা সত্ত্বেও একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি মামলা তুলে নিতে এবং আপস করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন নিহতের মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিসিকার মা বলেন, আমার মেয়ের স্বপ্নগুলো ওরা শেষ করে দিয়েছে। আমি কোনো সমঝোতা চাই না, আমি আমার সন্তানের মৃত্যুর বিচার চাই। সুদূর আমেরিকা থেকে বাবাও জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান যাতে আর কোনো মেধাবী ছাত্রীকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সহপাঠীদের দাবি, ডিজিটাল নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেইলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স