ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমগীর খানের বিতর্ক, অভিযোগ ও তদন্তের চিত্র

চাকরি জীবন শুরু থেকে ২০২৬ পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিতর্ক, অভিযোগ ও তদন্তের চিত্র

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০৩:০১:১১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০৩:০১:১১ পূর্বাহ্ন
চাকরি জীবন শুরু থেকে ২০২৬ পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের  বিতর্ক, অভিযোগ ও তদন্তের চিত্র চাকরি জীবন শুরু থেকে ২০২৬ পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিতর্ক, অভিযোগ ও তদন্তের চিত্র
📰 অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গণপূর্ত অধিদপ্তরের (PWD) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরে বেড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চাকরি জীবনের শুরু থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 🔎 চাকরি জীবনের শুরু ও প্রভাব বিস্তার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মো. আলমগীর খান তার কর্মজীবনের শুরুতেই প্রকৌশল খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ধীরে ধীরে প্রশাসনিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করেন। বিশেষ করে ঢাকার ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও বিভাগীয় একাধিক সূত্রের মতে, ঠিকাদারি কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, যেখানে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। 📹 সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী: প্রকল্পে ৩টি ১৬-চ্যানেল ডিভিআর, ১২টি পিটিজেড ক্যামেরা, ১০টি ডে-নাইট ক্যামেরা ও মনিটর স্থাপনের কথা ছিল বাস্তবে অনেক ক্যামেরা অকেজো বা স্থাপনই হয়নি তবুও কাজ সম্পন্ন না করেই প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরকারি আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। 📑 টেন্ডার ও কার্যাদেশে অনিয়ম ২০১৬ সালের জুন মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ঠিকাদারকে একাধিক কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরকারি ক্রয়বিধি (PPR) লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকে জোরালো করে। 🚗 ভুয়া জনবল ও আর্থিক অপচয়ের অভিযোগ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো: বিভাগে মাত্র ২টি সরকারি গাড়ি থাকলেও ৩১ জন চালকের বেতন দেখানো হয়েছে বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে এছাড়া, স্থায়ী জনবল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দৈনিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। 📊 অডিট রিপোর্ট ও প্রশাসনিক নীরবতা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— কেন এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? 🏠 অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি: ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, প্লট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বাণিজ্যিক সম্পদে বিনিয়োগ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তবে এসব তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন। ⚖️ দুদকের সম্ভাব্য নজরদারি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরে আনার চেষ্টা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা মামলা সংক্রান্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। 🗣️ অভিযুক্তের বক্তব্য এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আলমগীর খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 📌 বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে: জনসেবার মান কমে যায় রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রথম পর্ব চলমান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ