ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পলাতক থাকার দাবি

কেয়া স্যান্ডেল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, ভুয়া চুক্তি ও ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ; ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন
কেয়া স্যান্ডেল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, ভুয়া চুক্তি ও ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ; ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের তথ্য ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পলাতক থাকার দাবি

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, “কেয়া স্যান্ডেল” নামের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্দুল কুদ্দুস একসময় Apex Footwear Limited-এর পণ্য, বিশেষ করে লেডিস স্যান্ডেল বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্র ধরে তিনি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করে ধীরে ধীরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্বাস অর্জনের পর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবসায় অংশীদার করার প্রলোভন দেখান এবং যৌথ বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া দলিল ও চুক্তিপত্র তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, একাধিক ব্যক্তিকে জামিনদার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পর সেই অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, এসব ঋণের দায়ভার এখন জামিনদারদের ওপর এসে পড়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, আব্দুল কুদ্দুস ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের হাসিনা মঞ্জিলে একাধিক ফ্ল্যাট, হোসেনী দালান, বংশাল, মিরপুর, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ওয়ারীসহ বিভিন্ন স্থানে তার সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
শুধু ঢাকা নয়, তার নিজ জেলা Barisal-এও কোটি টাকার জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে আত্মীয়-স্বজনদের নামেও জমি কেনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এমনকি একটি ব্যয়বহুল বাংলো বাড়ি নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে Anti-Corruption Commission (দুদক)-এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি চেক জালিয়াতি মামলায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, বর্তমানে আব্দুল কুদ্দুস নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করে অবস্থান করছেন, ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতি দমন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

( প্রথম পর্ব)

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ