পাহাড়ে বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক: রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০২-০৫-২০২৬ ০৮:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-০৫-২০২৬ ০৮:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা
প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি চলমান রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। আজ (২ মে) শনিবার দুপুরে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলা পিসিসিপি আয়োজিত এক ‘লিডারশিপ ট্রেনিং’ বা নেতৃত্ব বিকাশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এই ডাক দেওয়া হয়।রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা পিসিসিপি সভাপতি তাজুল ইসলাম। সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম।বক্তাদের মূল বক্তব্য ও উদ্বেগ: প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আমন্ত্রিত প্রশিক্ষক ও অতিথিবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৫২.০৬ শতাংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও তারা দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চনার শিকার। বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর থেকে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সকল রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।
শিক্ষা ও চাকরিতে বৈষম্যের চিত্র বক্তারা তথ্যের ভিত্তিতে জানান, ১৯৮৪ সাল থেকে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে উপজাতিদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমানে বছরে ৩২৫ জন উপজাতি শিক্ষার্থী বিশেষ কোটায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও একই অঞ্চলের অনগ্রসর বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কোটা নেই। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা বলেন, ৫২ শতাংশ বাঙালির জন্য মাত্র ২৩ শতাংশ বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।
নিরাপত্তা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র: কর্মশালায় পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাহাড়ে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। একটি কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় ছাত্রসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।নেতৃবৃন্দের আহ্বান পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা আজ নিজ ভূমিতে ‘তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক’এ পরিণত হয়েছে। পিসিসিপি একটি দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। পাহাড়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সি: সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নূর হোসেন।অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স