ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক রেলকর্মকর্তা ?

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০১:০২:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০১:০২:৫৯ অপরাহ্ন
বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক রেলকর্মকর্তা ? কুদরত-ই-খুদার বিরুদ্ধে
মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সিপিও) ও সাবেক যুগ্ম মহাপরিচালক (ইএমই) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার অনিয়ম নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনা চলছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুদরত-ই-খুদা রাজশাহীতে কর্মরত থাকাকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি সেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটে কয়েকজন ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের মাধ্যমে তিনি রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়া বিরোধী মতাদর্শের রেল শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে থাকার সুবাদে কুদরত-ই-খুদা শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:- রাজশাহীতে :- রাজশাহী বহরমপুর এলাকায় একটি ৫ তলা আলিশান বাড়ি (আনুমানিক বাজারমূল্য ১০-১২ কোটি টাকা), শিরোইল কলোনিতে ৫ তলা ভবন এবং পদ্মা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট। ঢাকায় :- ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে ১টি করে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ব্যবসায়িক বিনিয়োগ:- রাজধানীর একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার অংশীদারিত্ব বা পার্টনারশিপ রয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রেলভবনে মুখে মুখে আলোচিত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার এসকল অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অর্থ লোপাটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে। উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার মুঠোফোনে ০১৭১১৫—-৪৮ নাম্বারে একাধিকবার কল করা এবং খুদে বার্তা (SMS) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থে এই কর্মকর্তার সম্পদের উৎস এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ