হঠাৎ ঝড়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৫-২০২৬ ০৭:৫৮:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৫-২০২৬ ০৭:৫৮:৩১ অপরাহ্ন
ঝড় ও ভারী বর্ষণে
মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে ভোরের আকস্মিক ঝড় ও ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের টিনের চালা উড়ে গেছে। পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, লিচু ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে আকচা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানের টিনের চালা উড়ে যায়। এছাড়া জমির মধ্যে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ উপড়ে গেছে। অনেক স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। আলু উত্তোলনের পর রোপণ করা বোরো ধান এবং পাকা ধানের ক্ষেত মাটিতে নুয়ে যায় ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আম ব্যবসায়ীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানখেত ও আমবাগানে। ঝড়ে অনেক গাছ উপড়ে গেছে, আবার কোথাও ভেঙে গেছে বড় বড় ডালপালা। আমবাগানের গাছে থাকা কাঁচা ও আধাপাকা আম ঝরে পড়ে পুরো বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কৃষক ও আমচাষিদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায় ।
ঝড় থেমে যাওয়ার পর সকালে বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের ঝরে পড়া আম কুড়াতে দেখা যায়। তাদের মধ্যেই ছিল ছোট শিশু ফাহিম। হাতে ঝুড়ি নিয়ে আম কুড়াতে কুড়াতে সে বলে, “অনেক আম পড়েছে, আমি কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাব।”
তবে কৃষকদের মুখে ছিল হতাশা আর দুশ্চিন্তার ছাপ। উপজেলার কৃষক জলিল জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ভোরের ঝড় ও বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পাঁচ বিঘা ধান লাগিয়েছিলাম। সব ধান শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। বছরের সব আশা-ভরসা এই ফসলের ওপর ছিল।”
একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরাও। আম ব্যবসায়ী মিলন জানান, তিনি দুই বিঘা আমের বাগান লিজ নিয়েছিলেন। সকালে বাগানে এসে দেখেন অধিকাংশ আম মাটিতে পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে বাগান লিজ নিয়েছি। এখন দেখি গাছে আম নেই বললেই চলে। যে পরিমাণ আম ঝরে গেছে, তাতে খরচের টাকাও উঠবে কিনা জানি না।”
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মিনিটের এই ঝড়েই কৃষকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে গেছে এবং পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই কৃষকদের সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা, কৃষি বীমা ও জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের জরুরি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত সহযোগিতা না পেলে অনেক পরিবার মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। সরকারি ভাবে যতটুকু সম্ভব কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, “ভোরের আকস্মিক ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স