ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গেটে ঢুকতে বাধা, প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ: নিজস্ব নিয়মে গণপূর্তে ‘দুর্গতন্ত্র’, আলোচনায় আবু নাসের চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন
গেটে ঢুকতে বাধা, প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ: নিজস্ব নিয়মে গণপূর্তে ‘দুর্গতন্ত্র’, আলোচনায় আবু নাসের চৌধুরী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন সিন্ডিকেট এবং সাংবাদিক প্রবেশে অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ও গণপূর্তের আলোচিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ভায়রা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন আবু নাসের চৌধুরী। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে এই পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে তিনি বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমোদন দিয়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক টেন্ডার আইডিও সামনে এসেছে।
এছাড়া চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ায় কর্মরত থাকলেও সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিস করতেন না তিনি। বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করে তদবির ও পদ বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকতেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে।
এদিকে আবু নাসের চৌধুরীর বিপুল সম্পদের তথ্যও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাট, বারিধারা ও গুলশান-২ এলাকায় আরও একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। এছাড়া নামে-বেনামে বিপুল অর্থসম্পদ ও ব্যাংক হিসাব থাকার অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নতুন করে কঠোর ও অস্বাভাবিক বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক জানান, অধিদপ্তরের এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর আমন্ত্রণে অফিসে গেলেও গেটে প্রবেশের সময় তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ভেতরে ঢুকতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরে জানানো হয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ নেই।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিকদের জন্য আলাদা খাতা রাখা হয়েছে, যেখানে নাম, পত্রিকার পরিচয়, আগমনের কারণ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—এসব বিস্তারিত তথ্য লিখে দিতে হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুমতি না দিলে ভেতরে প্রবেশও করা যায় না।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই সাংবাদিক বলেন, “মনে হচ্ছিল সরকারি অফিসে নয়, কোনো গোপন সামরিক স্থাপনায় ঢুকতে গেছি। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশের ক্ষেত্রে এমন নজরদারি কেন? ভয়টা কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, “শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার পর আচরণ কিছুটা নরম হয়। এরপর নাম এন্ট্রি, স্বাক্ষর আর ভিজিটর কার্ড দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি ছিল অপমানজনক।”
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে এমন কড়াকড়ি আরোপের পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে? দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করতেই কি এই ‘নিজস্ব নিয়ম’ চালু করা হয়েছে?
এ বিষয়ে ড. আবু নাসের চৌধুরীর মুঠো ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান আমি নিজেই গণপূর্ত  ঢোকার নিয়ম তৈরি করেছি সাংবাদিক ঢোকার এত কড়াকড়ি জিজ্ঞাসা করলে ধমক সুরে কথা বলে কেটে দেয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ