গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা চোর নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দার ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে অবৈধ অর্থ দিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৬-২০২৬ ০২:০৯:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৬-২০২৬ ০২:০৯:১১ অপরাহ্ন
জুবায়ের বিন হায়দার
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারনে দাপট দেখাতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের সব মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে দুর্নীতি আর অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে এসব দুর্নীতির খবর অনেকটা চাপা পড়ে ছিল। দু-একটি দুর্নীতির খবর শোনা গেলেও তা তদন্তের নামে আসল খবর জানা যায়নি। এখন পরিবর্তিত সময়ে হরহামেশাই বিগত সরকারের আমলের নানা দুর্নীতি-অনিয়মের খবর জানা যাচ্ছে। নানা তদন্তে বের হয়ে আসছে দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের খবর। তেমনি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা সার্কেল-৩, ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত স্থানে বদলি বা পোস্টিং নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবনের সঙ্গে তার সম্পদের বৈধতার মধ্যে স্পষ্ট অসমতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুবায়ের বিন হায়দারের রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩/সি আসাদ এভিনিউ রোডে প্রায় ২২০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক। যার বাজার মূল্য ৩.৫ কোটি টাকা কিশোরগঞ্জ ইটনা থানায় এলাকায় তার বাবা একজন অত্যন্ত গরীব ছিলেন এবং পরে ঢাকা নারায়গঞ্জ বাসের ড্রাইভারী কাজ করে এই পরিবার থেকে এত সম্পদের মালিক হয় কী ভাবে ? । কিশোরগঞ্জ ইটনা থানায় জমি রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে পূর্বাচল প্লট ২০ কাঠা রয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এই সম্পদ বৈধ আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সরকারি চাকরির আয়ের হিসাব অনুযায়ী এত সম্পদ অর্জন সম্ভব নয়। সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোও এই অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সার্কেল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তিনি ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া সরকারি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বিলে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের বিল পরিশোধ, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে অনিয়মের প্রমাণও অভিযোগে উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থের বড় অংশ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেলেও এটি এবার প্রমাণভিত্তিকভাবে সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, জুবায়ের বিন হায়দারের সার্কেল-৩-এর আওতাধীন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও সরবরাহে কারসাজি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া দেননি ইঞ্জিনিয়ার জুবায়ের বিন হায়দারের ।
তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারি সম্পদ ও প্রকল্পে অনিয়ম হলে তা তদন্তের আওতায় আনা হবে।” দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয়ের বৈষম্য থাকলে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত শুরু হয়। তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও অভিযোগ পাওয়ামাত্র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স