ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিঃ চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ০৫:১৫:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ০৫:১৫:১৪ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিঃ  চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি আরিফুল
প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ- ১০/০৬/২০২৬ খ্রি. বাবা মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠিয়েছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছেলেকে অপহরণ ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। পরে পুলিশি অনুসন্ধানের আঁচ পেয়ে ভিকটিমকে সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই অভিযুক্ত (০১) আরিফুল (৩০), পিতা- মো. শহিদুল্লা, (০২) সানি (২২), পিতা- মো. কামাল মিয়া, উভয় সাং- গ্রাম শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া), থানা- বাঞ্চারামপুর, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়াদেরকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ০৯/০৬/২০২৬ খ্রি. সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানাধীন শফিরকান্দি গ্রাম হতে তাদের গ্রেফতার করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মুনতাছির (২১)-এর পিতা মোতাহার হোসাইন ৪/৫ বছর যাবৎ মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য জন্য ব্যাংক একাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। গত ১১/০১/২০২৬ খ্রি. বিকাল আনুমানিক ০৫টার দিকে ভিকটিম মুনতাছিরের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয় যে, মালয়েশিয়া থেকে তার পিতা ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে, টাকা নিতে দক্ষিণখান থানাধীন জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে মারধর করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে মুনতাছিরকে হত্যার হুমকি দেয়। অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশি অনুসন্ধানের বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিকটিম মুনতাছিরকে ১২/০১/২০২৬ খ্রি. গভীর রাতে ডিএমপির আগারগাঁও থানার শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসে। পরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান (ডিএমপি) থানার মামলা নং-১৮, তাং-১৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৬৫/৩২৩/৩৪২/৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ দায়ের করে। মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আরিফুল ও সানি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতেন। পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ঘটনার কিছুদিন আগে দেশে এসে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এই ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবস্থান শনাক্তের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে। একাধিক সোর্স নিয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয় এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকালে অভিযুক্ত সানির বিরুদ্ধে বাঞ্চারামপুর থানার মামলা নং-১৪, তাং-১৮/১০/২০২০ খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/৪৪৮/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোডে অভিযুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তথ্য অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালতে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান । বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগ। অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্বাক্ষরিত/- বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি, ঢাকা

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ