সচেতন জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ: সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
আপলোড সময় :
২১-০৬-২০২৬ ০৩:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-০৬-২০২৬ ০৩:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন।
বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ ২১ জুন ২০২৬ ইং
সচেতন, সোচ্চার ও সংগঠিত জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ড, প্রত্যাশা, অর্জন ও আগামী দিনের করণীয় নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুজন নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের চার মাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে মূল বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য দিলারা জাহান।
'সংস্কার ও নির্বাচন সমান্তরালভাবে চলতে হবে' — ড. বদিউল আলম মজুমদার
বৈঠকে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সরকারের চার মাসের অর্জন ও সীমাবদ্ধতার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা: একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। গত চার মাসে কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।"
আইন-শৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শুধু সরকার বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর ভরসা করে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সচেতন, সোচ্চার ও সংগঠিত জনগোষ্ঠীই পারে যেকোনো স্বৈরাচারী প্রবণতা রুখে দিতে এবং গণতন্ত্রের আসল রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে।
রাষ্ট্র সংস্কার এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারকে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার তাগিদ দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট সুজন নেত্রী দিলারা জাহান সরকারের নীতি নির্ধারণী জায়গা এবং সামাজিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন:
গত চার মাসে আমরা বড় কোনো সংকটের মুখোমুখি না হলেও শিক্ষা খাতের স্থবিরতা এখনো কাটেনি। একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি সরকারকে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিক সমাজকে কেবল সমালোচকের ভূমিকায় থাকলে চলবে না, বরং সরকারকে সঠিক পথে রাখতে গঠনমূলক পরামর্শ ও সক্রিয় অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকের মূল সুপারিশমালা
মুক্ত আলোচনা ও অতিথিদের বক্তব্য থেকে বর্তমান সরকারের আগামী দিনের করণীয় হিসেবে কয়েকটি প্রধান সুপারিশ তুলে ধরা হয়:
নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করা।
সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের মাধ্যমে সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি জাতীয় ঐক্যমত্য তৈরি করা।
সুজনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। বক্তারা একমত হন যে, বর্তমান সরকারের যেকোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের পাশে নাগরিক সমাজ বরাবরের মতোই সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স