অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়: ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমানকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-০৬-২০২৬ ০৫:২৭:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৬-২০২৬ ০৫:২৭:১৪ অপরাহ্ন
যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা:
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন।
অপহরণ, অমানুষিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মারাত্মক অভিযোগে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবীণ ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন নিলু (৬২)।
আজ (২৫ জুন, ২০২৬) দুপুর ২:০০ টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে তিনি এই দাবি জানান। ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন নিলু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার নর্থ শাহীমহল্লা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মফিজ হাওলাদারের পুত্র।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন নিলু জানান, গত ২০ জুন ২০২৪ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ টায় তিনি নিজের ব্যবসায়িক কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। ফতুল্লা থানাধীন ফিশারি গেট (ফালতু ফ্যাক্টরি) সংলগ্ন রাস্তার সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে ফতুল্লা থানা কৃষক দলের সভাপতি জুয়েল আরমান ও তার ক্যাডার বাহিনী তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। প্রথমে সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের কাছে ৭০,০০,০০০ (সত্তর লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে।
টাকা ও স্ট্যাম্প আদায়: পরবর্তীতে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে নগদ ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা জুয়েল আরমানের হাতে তুলে দেয়। অবশিষ্ট ৫,০০,০০০ (সাত লক্ষ) টাকার জন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ব্যাংকের খালি চেক (চেক নং- ০৯২৫১৩৩) এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি ঘটনার পরদিন সকালের মধ্যে চেকের বাকি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে না দিলে তাকে ও তার পরিবারকে সপরিবারে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমি দেশের একজন সাধারণ আইনমান্যকারী নাগরিক। জুয়েল আরমান একজন চিহ্নিত অপরাধী। এই ঘটনার পর আমি ফতুল্লা মডেল থানায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ঘটনার পর এতদিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে সহ,প্রশাসন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে অভিযুক্ত জুয়েল আরমানসহ এই ঘটনার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া স্ট্যাম্প ও অর্থ উদ্ধারসহ পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স