ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর হরিলুট নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১২:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১২:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জ গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর হরিলুট  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান! নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান



সিরাজগঞ্জ গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর হরিলুটসিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ যেন এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রিত ‘ব্যক্তিগত কারখানা’ আর সেই কারখানার মালিক, পরিচালক ও হিসাবরক্ষক সবই একসাথে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান! গোপালগঞ্জের এই বিতর্কিত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ, নিজেই কাজ নিচ্ছেন, নিজেই বিল পাস করছেন, আবার নিজের স্বাক্ষরেই টাকা তুলছেন। অর্থাৎ, সরকারি টাকায় একক আধিপত্যে চলছে এক অদৃশ্য ‘লুটের সাম্রাজ্য’।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাহমুদুল হাসান নামে-বেনামে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ঢাকা ও খুলনার একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে তিনি পর্দার আড়ালে নিজেই কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন প্রকাশ্যেই ‘সাপ-বেজির যুদ্ধ’।

ভূয়া প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় লুটপাটের মহোৎসব
অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিজ উপজেলার কথিত ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’ আলী আকবরের প্রতিষ্ঠান দ্যা মাদার বিল্ডার্স এর নামে একের পর এক কাজ পাইয়ে দেন তিনি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৩২২৫৪ নং টেন্ডারে প্রায় ৪.৪৮ লাখ টাকার ডিপটিউবওয়েল স্থাপন কাজটি কাগজেই সীমাবদ্ধ রেখে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে আদালত ভবনে অনার বোর্ড ও ফ্লাগস্ট্যান্ড স্থাপনের নামে কাজের আংশিক বাস্তবায়ন দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ ভাগাভাগির অভিযোগও রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউজের ভিআইপি রুম আধুনিকায়ণ, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরের রংকরণসহ একাধিক কাজ একই প্রক্রিয়ায় পাইয়ে দেওয়া হয়, যেখানে অভিজ্ঞতার তোয়াক্কা না করেই ‘পছন্দের ঠিকাদার’কে সুবিধা পাইয়ে দেন তিনি।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দীন ইসলামের প্রতিষ্ঠান এসএ এন্টারপ্রাইজ এ যেন মাহমুদুল হাসানের আরেকটি ‘অঘোষিত শাখা অফিস’। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের নামেই কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়ে পর্দার আড়ালে নিজেই বাস্তবায়ন করছেন তিনি।

উল্লাপাড়ার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণ, বেলকুচি মডেল মসজিদে ২৩ কোটির বেশি টাকার প্রকল্প, রায়গঞ্জ মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ সবখানেই একই চিত্র। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ওভারএস্টিমেট করে দ্বিগুণ ব্যয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরেও প্রায় সোয়া কোটি টাকার কাজ ছোট ছোট আরএফকিউতে ভাগ করে ৩৭টি প্যাকেজ তৈরি করে লুটপাটের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ। শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিসি অফিস ও জেলা কারাগারের কাজগুলোও একই ‘ফর্মুলায়’ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে এসএ এন্টারপ্রাইজকে।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনের পর একাধিক মামলার আসামি দীন ইসলাম আত্মগোপনে থাকলেও তার প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দিয়ে নিজেই বাস্তবায়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন মাহমুদুল হাসান এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ কর্মরত থাকাকালীন টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে শতাধিক কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়মের কারণে একসময় পদাবনতি ও পদোন্নতি স্থগিত থাকলেও পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় পদোন্নতি নিয়ে সিরাজগঞ্জে এসে ‘লুটের হোলিখেলা’ শুরু করেন তিনি।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার ও এএফকিউ’র মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাবর অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাজও নিজেই বাস্তবায়ন করছেন বলে জানা গেছে।

এই অনিয়ম-দুর্নীতির নেপথ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু ও ই/এম শাখার মিজানুর রহমান আকনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। পুরো বিভাগজুড়ে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ‘দুর্নীতির বলয়’, যেখানে স্বচ্ছতা যেন নির্বাসিত।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান প্রকৌশল সংবাদকে বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ