১২ বছরের চাকরিতে শতকোটির সম্পদের অভিযোগ:
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ঘিরে অনুসন্ধান
লিটন আলী
আপলোড সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০২:২২:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০২:২২:২১ অপরাহ্ন
মাত্র ১২ বছরের সরকারি চাকরি। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে নিজ জেলা বাগেরহাট পর্যন্ত তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে রাজস্ব প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আলতাফ হোসেন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও উচ্চমূল্যের স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব সম্পদের প্রকৃত মূল্য ও বৈধতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া নিজ জেলা বাগেরহাটে তার একটি বিলাসবহুল অট্টালিকা নির্মাণের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে গড়ে ওঠা এই সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
শুধু নিজের নামেই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী তার স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামেও বিপুল পরিমাণ জমি, প্লট, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং অন্যান্য বিনিয়োগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি অংশ বেনামি বা স্বজনদের নামে অর্জন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত মালিকানা আড়ালে রাখা যায়। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আলতাফ হোসেনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
আরও জানা গিয়েছে, দশম গ্রেডের একজন সামান্য কর্মকর্তা হিসেবে যেখানে তার ঢাকা শহরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই কষ্টকর সেখানে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক তিনি। তার গত ১১ বছরের চাকরিকালীন বেতন সর্বসাকুল্যে ৩০-৩৫ লাখ টাকার মতো। অথচ মালিক হয়েছেন কোটি কোটি টাকার। উল্লেখ্য যে, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮,৬৪০ (আটত্রিশ হাজার ছয়শত চল্লিশ) টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যাত্রাবাড়ির দনিয়ার ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় তার একটি আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে। রসুলপুরের মাস্টার বাড়িতে নির্মাণাধীন ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় তার আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদ ও ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে।
এদিকে সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলের অভিমত, অভিযোগগুলো যেহেতু জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ অসত্য হলে তা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স