ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০২:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০২:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগের রাতে কৌশলে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের বোনের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে এই নারী আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত এবং প্রায়ই হত্যার হুমকি দিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দিত। আমার ছেলে একটি স্বনামধন্য হোটেলে চাকরি করত। যে বাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও মূলত আমার ছেলের উপার্জনের টাকায় নির্মিত। আমার নিরীহ ছেলেটাকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের সবাইকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
হাসপাতাল সূত্র
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশের বক্তব্য
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিষয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওসি বলেন, “তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স