ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনানী কবরস্থানের পাশে শহীদের স্পা সেন্টারে চলছে দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৫:১৯:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৫:১৯:১০ অপরাহ্ন
বনানী কবরস্থানের পাশে শহীদের স্পা সেন্টারে চলছে দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য
রাজধানীর বনানী কবরস্থানের পাশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদের স্পা সেন্টারে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পরিচয় দেয়া শহীদ এখন বিএনপি নেতাদের অজান্তে তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দেহ ব্যবসাসহ মাদক বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানী কবরস্থান রোডের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় বেশ দাপটের সাথে স্পার আড়ালে অল্প বয়েসী নারীদেরকে জোরপূর্বক ধরে এনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করাচ্ছে শহীদ ও তার সঙ্গীরা। তারা জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদের স্পা সেন্টারটি এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাত যত গভীর হয় শহীদের স্পা সেন্টার যেন ততই সরব হয়ে ওঠে মদ, নারী এবং খদ্দেরের মিলন মেলায়। অল্প বয়সী নারীদের পাশাপাশি দেশি বিদেশি ব্র্যান্ডের নানা রকমের মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হয় আগত খদ্দেরদের কাছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শহীদের স্পা সেন্টারে রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল লক সিস্টেম বেশিছু গোপন ক্যামেরা। যার মাধ্যমে বনানী কবরস্থান থেকে শুরু করে তার স্পা সেন্টারের ভেতরে এবং বাইরে সবটাই দেখা যায় কারা আসা যাওয়া করছে। এবং খদ্দেরদের স্পর্শকাতর মুহূর্ত গোপনে ধারন করে চলে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইলিং। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের বিত্তবানসহ উচ্চ পদস্থ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রলোভনে ডেকে এনে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে ধারণ করা হয়। এরপর চলে মাসের পর মাস ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায়। অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবার কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে গোপন দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তার স্পা সেন্টারে আসা খদ্দেরের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা- এমনটাই অভিযোগ রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বনানীর ২৭ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার (অবন্তী হাউজ) ৬ষ্ঠ তলায় (লিফট-৫) ডি ফ্ল্যাটে মেসেজ পার্লারের নামে শহীদের স্পা সেন্টারে এমন অবৈধ কার্যকলাপ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কবরস্থানের মত একটি পবিত্র জায়গার পাশে ৩৭ নম্বর বাসায় (অবন্তী হাউজে) গড়ে তোলা হয়েছে দুনিয়ার জাহান্নাম হিসেবে পরিচিত এই স্পা সেন্টারটি। এই স্পা সেন্টারটি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে শহীদ ও তার কর্মচারীদের দ্বারা গণমাধ্যমকর্মীদেরও একাধিকবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে জানা যায়। বিএনপি'র বিভিন্ন সারির রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই স্পা সেন্টারটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বেশ দাম্ভিকতার সাথে জানান শহীদ ও তার কর্মচারীরা। প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা খরচ করা হয় বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার জন্য- এমনটাই জানান শহীদ ও তার সঙ্গীরা। শহীদের স্পা সেন্টারে বিএনপির নেতাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি'র বেশ কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান সরকার এবং বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলানোর জন্য বিভিন্ন নেতার নাম পরিচয় ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদ এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিএনপি নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের দোহাই দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী শহীদকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে তার এই স্পা সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে দালালদের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবার থেকে কম বয়সী নারীদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে এই স্পা সেন্টারে জোর করে বন্দি রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয় দরিদ্র পরিবারের নারীদের। অল্প বয়সী এই নারীদের মধ্যে কেউ যদি দেহ ব্যবসায় রাজি না হয় কিংবা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তবে তার উপর চলে চরম শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। এমন বর্বরতা যেন মধ্যযুগকেও হার মানিয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, শহীদের স্পা সেন্টারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের রয়েছে অবাধ যাতায়াত। সরকার বিরোধী কার্যক্রমের বাস্তবায়নে এখানে চলে গোপন আড্ডা। মদ, নারী এবং মাদকের সরবরাহ নিয়মিত থাকায় এই অবৈধ ব্যবসায় তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি এবং রাজধানী জুড়ে বিশাল সিন্ডিকেট। যাদের অনেকেই শহীদের সাথে কাজ করে কমিশনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় এবং কবরস্থানের মত একটি পবিত্র জায়গার পাশে এভাবে মাদক বিক্রি এবং দেহ ব্যবসাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল এই অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এ বিষয়ে স্থানীয় বনানী থানাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ