ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সব আলোচনা মির্জা ফখরুলকে নিয়েই

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০২:০৭:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০২:০৭:৫২ অপরাহ্ন
​আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সব আলোচনা মির্জা ফখরুলকে নিয়েই



আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম আলোচনায় এলেও বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।


গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় বা অন্য কোনো প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এর আগে সরকারি সূত্র জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে। তবে আইন অনুযায়ী এ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিয়মিত বা বিশেষ সংসদ অধিবেশন বাধ্যতামূলক নয়; প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পৃথকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।


আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও সম্প্রতি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।


দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় সীমার বাইরে গ্রহণযোগ্যতা—এসব কারণে মির্জা ফখরুল সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন। তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এবং সরকারে পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তার ঠাকুরগাঁও–১ আসন শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, কমিশন নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হবে। আর বৈধ প্রার্থী একজন হলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং তাহমিদা আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ