ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন
একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ




শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দেশের একটি উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত রোববার (২৬ জুলাই) জারি করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।


প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ার দক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগে সক্ষমতা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর ফল আশানুরূপ না হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও শিক্ষার্থীদের শিখনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে কেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।


শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, রতনগঞ্জ, ভবানীপুর, রূপপুর, ঢালারচর, খাস আমিনপুর, গোপিন্দা, ধর্মগঞ্জ, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া ও বেড়া সান্যালপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।



এ ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে টানা দুই থেকে তিন মাসও পরিদর্শন করা হয়নি।

এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। এতে মূল্যায়নের প্রকৃত চিত্র বিকৃত হচ্ছে এবং এফএলএন কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি নিরূপণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, শুধু শিক্ষকদের শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

গোপিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পর্যাপ্ত পড়াশোনার সুযোগ পায় না। তবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষকদের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ