ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

লিটন আলী
আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ১২:৪০:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ১২:৪০:৪৪ অপরাহ্ন
বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ



বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা (বিভাগীয় মামলা সেল) আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভাগীয় মামলা সেলে কর্মরত আহসান হাবিব প্রায় ১৫ বছর ধরে একই পদ ও একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে বেনামি অভিযোগপত্র তৈরি বা ব্যবহার করে বিভাগীয় মামলা দেওয়ার পর তাদের বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, চাকরি প্রদান, বদলি বাণিজ্য, ঘাটের টেন্ডার ও ইজারা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর সাবেক এক সচিবের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং নিজে প্রায় ২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার গোমতী নদীর ওপারে তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় বাংলো বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া কুমিল্লা শহরের কোতোয়ালি থানার পাশের মুগলটুলিতে জামে মসজিদের পাশে সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার নামে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাছের ঘের, গরুর খামার এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর কিছু ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তার মাসিক বেতন প্রায় ৬০ হাজার টাকা হলেও এই আয়ের সঙ্গে উল্লিখিত সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবিব বলেন, “আমার সকল সম্পদ বৈধ। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করি না।”

একই কর্মস্থলে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার কর্তৃপক্ষ আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েই আমাকে একই কর্মস্থলে রেখেছেন। এটি কোনো অপরাধ নয়।”

এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জনস্বার্থে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মহল এবং বিআইডব্লিউটিএর সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রত্যাশা

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ