ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ’নিয়মের অ’ভিযোগ ​গণপূর্তের প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে কোটি টাকার

লিটন আলী
আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন
অ’নিয়মের অ’ভিযোগ ​গণপূর্তের প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে কোটি টাকার



গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে দরপত্রে অনিয়ম, কাজ সম্পন্ন না করেই কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার, অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ২১টি কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতে পাচার করেছেন। অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতের নিউমার্কেট এলাকায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায়ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা পবিত্র কুমার দাস বর্তমানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক। এর মধ্যে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাটের মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা উদ্যানের পাশেও তার একটি ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার এক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং অতীতে বরিশালে কর্মরত অবস্থায় এক অফিস সহকারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্পা ও বিনোদনকেন্দ্রে তার নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর একই বিভাগে কর্মরত থেকে পবিত্র কুমার দাস একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়া ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয় না এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার জন্য একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অকেজো জেনারেটর, সিকিউরিটি লাইট, পাম্প মোটর এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর ২২টি কার্যাদেশ দেয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই ২২টি কার্যাদেশের মধ্যে ২১টির বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, বাবর অ্যাসোসিয়েটস, অনিক কনসোর্টিয়ামসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া এসব কাজের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাস এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান রনির যোগসাজশে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। দপ্তরের কর্মচারীরা জানান, তিনি মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে পবিত্র কুমার দাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ