রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০০ পরিবারকে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৮-২০২৬ ০৬:০৯:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৮-২০২৬ ০৬:০৯:০৯ অপরাহ্ন
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. হাবীব আজমের বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসেবে এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে বহু পরিবার বসতঘর হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তাদের তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনেই এই উদ্যোগ।ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরনবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এসময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে জেলা পরিষদ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বক্তারা আরও জানান, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ডেই নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের মাঝে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার বঞ্চিত না হয়।এদিকে বিপুল সংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতিতেও যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা গ্রহণ করেন উপকারভোগীরা। এসময় তারা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির। এজন্য তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স