ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১০-০৮-২০২৬ ০৬:৪৩:০৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-০৮-২০২৬ ০৬:৪৩:০৮ অপরাহ্ন
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মসজিদে আসা মুসল্লিরা।
সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এসিগুলো। মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি ব্যবস্থার দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তাগাদার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে এসি ব্যবস্থা চালু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে জোহরের নামাজ আদায় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে ভালো লাগল। সেখানে মসজিদের নতুন এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করলাম। মুসল্লিদের মুখে স্পষ্টতই আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ দেখলাম।’
তিনি বলেন, ‘ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর অবশেষে মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।’
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে। এর উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ড. ফাওজুল কবির খান তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় ওই দাতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
পরবর্তী কয়েক মাস ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
সাবেক উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এসি ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মসজিদের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে মসজিদের এসি সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, একটা লম্বা সময় যুদ্ধের পর মসজিদে এসি চালু হলো। মসজিদের পুরো কাজটা করতে যে কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে এসির লাইন পেতে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি, নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস—সব জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরেছি।’
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রেখেছে।’
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। আবু সাদিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দিয়েছে দলীয় প্রভাবশালী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘ডাকসু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোও সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স