ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০১:২৫:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০১:২৫:৪৬ অপরাহ্ন
​ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী



ভারতে অনুষ্ঠেয় বহুল আলোচিত ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে তার একজন প্রতিনিধি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।



গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ব্যাপারে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আপনাদের বুঝতে হবে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে নয়, চেয়ারপারসন অব দ্য বিমসটেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো সৌজন্য বৈঠক করেছেন । পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে খলিলুর রহমান বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারতকে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে—দীনেশ ত্রিবেদীকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে হাসিনাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, আমার মনে হয়েছে— ভারত তার মর্মার্থ বুঝতে পেরেছে


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোনোভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয় এমন কোনো কাজ দিল্লি করবে না বলে দীনেশ ত্রিবেদী আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য বৈঠকের আগে গত রোববার আমার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে ভারতীয় দূতের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর গতকালের বৈঠকে ভারত সফর নিয়ে আলোচনার বিষয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারতে একটি ‘গ্রান্ড ভিজিট’ অর্থাৎ, পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিকভাবে সামান্য কথাবার্তা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারত অবগত রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাবেন, সেই সম্ভাবনা কম।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কূটনীতিক আমার দেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন—এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। সম্মেলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে আমার কাছে নির্দেশনা আসত।

এদিকে, ভিভিআইপি ভিজিট নিয়ে কাজ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তুতির কথা আমার জানা নেই। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাবেন।

গত ১৪ জুলাই বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানকে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ প্রোগ্রামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন একটি কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আমন্ত্রণ পাঠায়। আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামের আগে প্রধানমন্ত্রী শব্দটি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, তারেক রহমান আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পরে তার পদাধিকারবলে বিমসটেক-এর চেয়ারপারসন। আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রী শব্দটি উল্লেখ না থাকা অবমাননাকর। ভারত সরকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ দিল্লির একটি কূটনৈতিক ফাঁদ। ভারতের বাংলাদেশের ব্যাপারে একের পর এক আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশেষ করে ঢাকাকে চাপে রাখতে হাসিনাকে মাঠে নামানোয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নীতিনিধারক মহলে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যখন আপাতত দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটা ভারত সরকারের একটি কৌশলগত চাল।

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শহীদুজ্জামান এ ব্যাপারে আমার দেশের সঙ্গে আলাপে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করতেই শুধু বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতীয় দূত বারবার বলার চেষ্টা করছেন, দুই প্রধানমন্ত্রী বসলেই নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! তার এই মিষ্টি কথার গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, বিমসটেক একটি অকার্যকর সংস্থা। সার্কের বিকল্প হিসেবে এটাকে দাঁড় করাতে চাইছে ভারত। তাই বিমসটেক-এর চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ভারত যতদিন তার বাংলাদেশ নীতি না বদলাচ্ছে, ততদিন দেশটির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খ‌লিলুর রহমা‌ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, আলোচনায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপার একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে। এছাড়া, শহীদ হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা, আপনারা জানেন, ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য হাদি ইস্যুটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় । হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য আমরা বলেছি।



দুদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গুরত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আলোচনার প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এগুলো আলোচনা হয়েছে। এগুলো খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার নয়। আমার সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে একটি চিঠির মাধ্যমে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। আজকের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছেন। এটা আমাকে তারা জানিয়েছেন, আজকেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।

৫ আগস্টের জন্য হাসিনা যা ঘটিয়েছেন সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নয় তো। আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে কী হয়েছে জিনিসটা। একটা রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে—নির্বাহী, আইন এবং বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা, তার জায়গা হলো জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটা কোর্ট তার বিচার করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে কি হয়? তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কিছু বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকলে সেটা আদালতে বলবে।

তিনি বলেন, ৫ তারিখ হাসিনা যে কাজটা করেছে, সেটা হলো বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমি বলেছি, আমাদের পুরো রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি আমরা চাই সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক এবং আমরা আশা করব, আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে।

খলিলুর রহমান বলেন, আমার ধারণা হচ্ছে, তারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং আশা করব আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে অবজ্ঞা করার মতো কিছু তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। সম্পর্ক স্বাভাবিক কবে নাগাদ হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথম কথা হলো আমি গণক নই। সুতরাং বলতে পারব না কোনদিন এটা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, দাওয়াত দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেককে। এই পার্থক্যটা আপনাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যা সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেটা আমরা দেখব।

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, হাইকমিশনারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। একজন হাইকমিশনারের সঙ্গে সরকারপ্রধানের বৈঠকে সাধারণত চুক্তি বা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীনেশ ত্রিবেদীর এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ নি‌য়ে ভারতীয় হাইক‌মিশন এক বার্তায় জা‌নি‌য়ে‌ছে, ভারতীয় হাইকমিশনার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী মনোভাব নিয়ে একত্রে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

তারা পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলোর ব্যাপারে মতবিনিময় করেন এবং জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন দিনেশ ত্রিবেদী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন জনপরিচিত ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে দেখা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। প্রথমবার দেখা হলেও তার সঙ্গে এমন মনে হয়নি যে এটি প্রথম সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ও বিনয়ী।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। তবে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হলে তার অনেক কিছুই সমাধান সম্ভব। ভারতের জনগণ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে ইতিবাচক।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশেরই নিজস্ব কিছু ইস্যু থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকুক। সম্পর্ক ভালো থাকলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, তারা স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষকেই বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ