ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, ৫ আগস্ট হত্যা মামলা ও দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি

জাতীয় গৃহায়নের অফিস সহকারী, দুদকের মামলায় অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা মোস্তফা কামাল শাহীন এখনও সিন্ডিকেটের হোতা । 

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৮:৫২:৫৪ অপরাহ্ন
জাতীয় গৃহায়নের অফিস সহকারী, দুদকের মামলায় অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা মোস্তফা কামাল শাহীন এখনও সিন্ডিকেটের হোতা । 


 
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত মোস্তফা কামাল শাহিনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের হত্যা মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 
এত গুরুতর অভিযোগের পরও তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে বহাল তবিয়তে কর্মরত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। 
 
এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর জাগৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার দুই মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৮ জানুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। ফলে তদন্ত কমিটি গঠনেই যদি এতটা সময়ক্ষেপণ হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ হবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
 
সুবিধাভোগীরা অনেক সময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নানা কৌশল ও চালাকির আশ্রয় নেন মন্ত্রীর এলাকার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, মোস্তফা কামাল শাহিন অত্যন্ত কৌশলীভাবে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করে চলেছেন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর নিজ জেলা কুমিল্লার বরুড়া এলাকার বাসিন্দা—এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনেকের কাছে তিনি নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন সময় সময় তিনি অনেক কে বলেন মন্ত্রী আমাকে কাজ করতে বলেছেন’—এমন বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মন্ত্রীর এলাকার বাসিন্দা ও পরিচিতজন হওয়ার বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন।


ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে বা অভিযোগ করতে দ্বিধাবোধ করেন বলে দাবি করা হচ্ছে।    প্রসঙ্গত, একের পর এক দুর্নীতি আর জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহিন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অনেক তথ্যের খোঁজও মিলেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে শাহিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।
 
অথচ তিন বছরেও সে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। দেয়া হয়নি অভিযোগপত্র। প্লট জালিয়াতি কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জাল স্বাক্ষরসহ বহু অপকর্মে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন। তবে ক্ষমতার দাপটে বারবার তিনি ধরাছোয়ার বাইরে থেকেছেন। তার নিয়োগেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। সবচে বড় কথা, মোস্তফা কামাল শাহিন ছিলেন পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী। নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার পরিচয় দিয়েই ১৬ বছর ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন। স্বঘোষিত সিবিএ নেতা বনে দেখিয়েছেন ক্ষমতার দাপট। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও তার ক্ষমতায় হেরফের হয়নি।

বরং কালো টাকার জোরে ঊর্ধ্বতনদের বশ করে বহাল তবিয়তে আছেন। আর এ অভিযোগ যে কোনো অতিরঞ্জিত নয়, সাম্প্রতিক ঘটনায় তার প্রমাণ মিলেছে।   মোস্তফা কামাল শাহিনের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে অনেক গুলো জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয় হয়। তবে এর আগেই মন্ত্রণালয়ে তার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে তার দুর্নীতি অনুসন্ধানের নির্দেশনা পেয়ে তদন্ত কমিটি করে জাগৃক। 
 
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্তদের জন্য ‘সেইফ জোনে’ পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক দুর্নীতি, জালিয়াতি, নথি গায়েব ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে লিখিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাগৃকের ভূমি শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, প্লট জালিয়াতি, নথি গায়েব, ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।


অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি শাখায় প্রভাব বিস্তার করে শাহিন বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও অনুসন্ধানের বিষয়ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদের অভিযোগও রয়েছে।  অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহিন ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে মামলা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। 
 
 
 প্লট ও নথি জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ শাহিনের বিরুদ্ধে ভূমি শাখার বিভিন্ন নথি নিয়ে গুরুতর অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু নথি অফিসের রেকর্ডের বাইরে থেকে তৈরি করে মূল নথি হিসেবে উপস্থাপন, ডিজিটাল নম্বর ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল এবং এসব নথির ভিত্তিতে লিজ দলিল সম্পাদনের মতো ঘটনা ঘটেছে।


বিশেষ করে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি বাড়ি ও কয়েকটি পুনর্বাসন প্লটের নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব নথির রেকর্ডরুমের তালিকা, নথি মুভমেন্ট রেজিস্টার, ডিজিটাল নম্বর, বরাদ্দপত্র, ব্যাংক চালান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

একই সঙ্গে লিজ দলিল সম্পাদনের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, চালান ও সংশ্লিষ্ট নথির বৈধতা যাচাই করা হয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।  শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ মোস্তফা কামাল শাহিন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লট, ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বিদেশে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তার চাকরিতে যোগদানের সময়কার সম্পদের বিবরণ এবং বর্তমানে অর্জিত সম্পদের তুলনামূলক হিসাব করলে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যেতে পারে। 
 
এ কারণে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।  সিবিএ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহিন কর্মচারী ইউনিয়ন বা সিবিএর পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ভূমি শাখার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সিবিএ-সংক্রান্ত এসব দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে

মন্ত্রণালয়ের ১৭ নভেম্বরের চিঠির সূত্র উল্লেখ করে পরবর্তীতে জাগৃক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আহসান হাবিবকে। সদস্য হিসেবে রাখা হয় উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা-২) তায়েব-উর রহমান আশিক এবং সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. আরিফুজ্জামানকে। অফিস আদেশে শাহিন, তার স্ত্রী এবং কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ফাইল গায়েব, ফাইল আটকে হয়রানি, ডিজিটাল নম্বরবিহীন কাগজপত্র ব্যবহার করে লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের কথা বলা হয়।

কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।  নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নেই প্রতিবেদন অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আহসান হাবিবকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—আহ্বায়ক বদলি হওয়ার পর তদন্ত কমিটির কার্যক্রম কী অবস্থায় রয়েছে এবং কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে কি না। কমিটির সদস্য তায়েব-উর রহমান আশিক ও মো. আরিফুজ্জামানের কাছেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। 


এর মধ্যে সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. আরিফুজ্জামান কমিটি গঠনের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানলেও লিখিত চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে অভিযোগে। বিষয়টি সত্য হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।  তদন্ত ধামাচাপার’ অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠনের পর জাগৃকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোস্তফা কামাল শাহিনের যোগাযোগ ও যাতায়াত বেড়ে যায়। 
 
 
এরপরই তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। তদন্ত ধামাচাপা বা প্রভাবিত করার এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ অবশ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত কমিটির কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অফিস নথি এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগপত্রে শাহিনের নিয়োগ ও পরবর্তী পদ পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত নথি, নিয়োগের সময়কার বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদায়ন ও পদ পরিবর্তনের আদেশ যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীরা মনে করেন, ব্যক্তিগত নথি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত মূল কাগজপত্র পরীক্ষা করলেই এসব অভিযোগের সত্যতা সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব।  আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শাহিনের কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাগৃকের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নথি উপস্থাপন, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, ঘুষ লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সরকারি তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে যাচাইযোগ্য দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।


জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ যদি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হয়, তাহলে কেন হয়নি—তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক বদলির পর তদন্তের ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি তার সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, ভূমি ও প্লটের নথি, লিজ দলিল, নথি মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং নিয়োগসংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি পরীক্ষা করা হোক। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তদেরও দায়মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তদন্ত ঝুলিয়ে রেখে বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য চাপা রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 
 
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শাহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 
পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ