জ্বালানির অভাবে দুটি জেনারেটর অচল, গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৬-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-০৮-২০২৬ ০১:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন
লোডশেডিংয়ে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। অথচ জ্বালানি তেলের অভাবে দুটি জেনারেটর অচল। ডিজেলের জন্য সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় অনেক বছর ধরে অচল পড়ে আছে জেনারেটর দুটি। এই ঘটনা সাটুরিয়া ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
জানা গেছে, সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো থেকে ২০১৬ সালে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ কেভির একটি জেনারেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেটি দিয়ে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগের লাইন সংযোগ দেওয়া আছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে ৯ বছর ধরে অচল পড়ে আছে জেনারেটরটি।
এদিকে ২০২০ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে নতুন একটি তিনতলা ভবন ও ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বসানো হয় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জেনারেটর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে যেটি সাবস্টেশন নামে পরিচিত। লোডশেডিং হলে দ্রুত সাবস্টেশন চালু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা। এই জেনারেটর বসানোর পর থেকে আজ পর্যন্ত ৫ ঘণ্টাও চালাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে জেনারেটরটি। তবে হাসপাতালটিতে আরেকটি ছোট্ট জেনারেটর আছে, যা দিয়ে লোডশেডিংয়ের সময় চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা চলে। এটি দিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি চালানো বা অস্ত্রপচারের কাজ করা যায় না। ছোট জেনারেটরটির জ্বালানি তেল খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সাটুরিয়া হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তিনতলা বিশিষ্ট। রোগীদের রাখা হয় তিন তলায়। প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরম ও ছাদের তাপে অতিষ্ঠ রোগীরা। বিশেষ করে শিশুরা গরমে কান্নাকাটি করলে শয্যা ছেড়ে বাইরে যেতে হয়। তবে ছোট একটি জেনারেটর দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়ে বাতাস খান, কিন্তু রোগীর বিছানায় কোনো বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরে না। চিকিৎসক ও নার্সরা আরাম-আয়েশ করলেও রোগীরা কী অবস্থায় আছে তা যেন দেখার সময় নেই তাদের।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, বিদ্যুৎ না থাকলে এই জেনারেটর দিয়েই রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সিজার করা হতো। এখন ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সব ধরনের অস্ত্রপচার করা যাচ্ছে না। ফলে অন্তঃসত্ত্বা অনেকের সিজার করতে হচ্ছে বিভিন্ন ক্লিনিকে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্যাথলজি বিভাগের সব ধরনের পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, উপজেলায় নতুন অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে রোগীদের জন্য দুটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ আইপিএস দেওয়া হবে। যাতে রোগীরা গরমে কষ্ট না পান।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, তাদের হাসপাতালে সরকারিভাবে দুটি জেনারেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না দেওয়ায় জেনারেটর চালু করা যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন রোগীরা। সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ পেলে জেনারেটর দুটি সচল রাখা যেত। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জেনারেটরগুলো ঠিক আছে কি না তাঁর জানা নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স