বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের ছাত্রলীগ দম্পতি সচিবালয়ে: একজন ভূমি মন্ত্রণালয়ে, আরেকজন কৃষি সচিবের পিএস!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৪:৫৪:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৪:৫৪:৪১ অপরাহ্ন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এত সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও বহাল তবিয়তে আছে ফ্যাসিবাদের দোসর আমলারা।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দীর্ঘসময় ধরে মেধাবীদের বঞ্চিত করে কেবল দলীয় আনুগত্যের কারণে বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দখল করে রেখেছিল ছাত্রলীগের প্রাক্তন সুবিধাভোগীরা।
আওয়ামী ফ্যাসিজমকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার ছিলেন এই আমলারা। এদেরই অন্যতম এক বাস্তব উদাহরণ হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সাবেক ইউএনও ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী (মুন্নি) এবং তার স্বামী।
নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী (পরিচিতি নম্বর: ১৮১৪১, ৩৫তম ব্যাচ): সাবেক এই বিতর্কিত ইউএনও বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন।
নিলুফার ইয়াসমিন ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলেন ,নিয়মিত মিছিল মিটিং ,হল বানিজ্য সহ বিভিন্ন আইনবহির্ভূত কাজ করে আসছে ছাত্রী থাকাকালীনই।
মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (স্বামী): তিনি বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত আছেন। এই কর্মকর্তার নামে বড় বড় সব দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেসব নথি সংযুক্ত।
কক্সবাজারের সেই 'প্রশাসনিক মাফিয়া' সাম্রাজ্য -বিগত দিনে কক্সবাজারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই স্বামী-স্ত্রী দুইজন মিলে একচ্ছত্র রাজত্ব চালিয়েছেন। একই জেলার দুটি প্রধান উপজেলা কক্সবাজার সদর ও চকরিয়া উপজেলার শীর্ষ প্রশাসনিক পদ দখল করে তারা গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল সিন্ডিকেট। স্থানীয় রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের নিয়ে গঠিত তাদের এই সাম্রাজ্যের কাছে জিম্মি ছিল সাধারণ মানুষ।
সাবেক এই ইউএনও-এর বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অতীত ছাত্রলীগের রাজনীতির ইতিহাস নিয়ে ছাত্রসমাজ সোচ্চার ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, তখন তিনি চরম দমন-পীড়নের পথ বেছে নেন। প্রতিবাদী ছাত্রদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, নিজের অনুগত 'মিডিয়া মাফিয়া' ব্যবহার করে ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে উক্ত প্যাড ভুয়া বলে দাবি করা হয়।
সে সময় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিসে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
পরবর্তীতে ছাত্র প্রতিনিধিরা আরও খোঁজ নিলে তার ছাত্রলীগ আমলের মিছিলের সরাসরি ছবি ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী হওয়ার অকাট্য ইতিহাস বের হয়ে আসে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের ও ক্ষোভের বিষয় হলো, বিগত দিনের এই সব অপকর্ম ও ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ার পরও বর্তমান সরকার আসার পর এই দম্পতির ক্ষমতার দাপট কমেনি।
শাস্তির মুখোমুখি হওয়া তো দূরের কথা, তারা উল্টো আরও ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং পেয়েছেন! ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর গঠিত বর্তমান সরকারের আমলেও তারা সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় পুনর্বাসিত হয়েছেন:
জুলাই অভ্যুত্থানের আজকে এত দিন পরও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এবং নীতি-নির্ধারণী জায়গায় এরা কীভাবে বহাল থাকে?
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের স্তম্ভ হিসেবে যারা কাজ করেছে, যাদের মদদ ও স্বাক্ষরে জুলাইতে আমাদের ভাইদের শহীদ করা হয়েছে, তারা কীভাবে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএস বা সিনিয়র সহকারী সচিবের পদ আঁকড়ে ধরে রাখে?
আর তার চেয়েও মুখ্য বিষয় হলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এর কারন কৃষিকার্ড।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমরা দেখেছি। এসব দোসরদের গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় রাখলে এ ধরনের জটিলতা কোনো অমূলক বিষয় নয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স