ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ , ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন
গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক


সার নিতে সকাল থেকে ডিলার পয়েন্টে ভিড় করেছিলেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খোলেনি ডিলারের গুদাম।


এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার বের করে নিয়ে যেতে শুরু করেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় ১৯৭ বস্তার মধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিলেও বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজীর মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। তার ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা।


রবিবার সকাল থেকেই সার নিতে ওই ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় এক পর্যায়ে তারা গুদামের দরজা ভেঙে সার বের করে নিতে শুরু করেন।

এ সময় কৃষকেরা ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। এসব বস্তায় মোট সারের পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে।


ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। কিন্তু বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলনও এর চেয়ে কম ছিল। ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকেরা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী সার পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা আতঙ্কিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। নিয়ে যাওয়া বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু মানুষ সার নিয়ে চলে যান। পরে খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ