রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো, সুবিধা ভোগ করে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা: নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-০৮-২০২৬ ০২:০৮:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৮-২০২৬ ০২:০৮:৪০ অপরাহ্ন
যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো—তারা কঠোর পরিশ্রম করলেও সেই পরিশ্রমের সুফল ভোগ করতে পারেন না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ২০১৮ সালের ঈদের দিনের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে নিজের স্মৃতিচারণ করেন রবিউল ইসলাম নয়ন। ছবিটি ২০১৮ সালের ১৬ জুনের বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন।
রবিউল ইসলাম নয়ন লেখেন, ‘ছবিটা ১৬ জুন ২০১৮, শনিবার, ঈদের দিনের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন জেলে। ঈদের দিন সকালবেলা, তখন সময় আটটা। হঠাৎ রুহুল কবির রিজভী ভাই ফোন করলেন। বললেন—‘নয়ন, তোমার লোকজন নিয়ে পল্টন পার্টি অফিসের সামনে চলে এসো। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে মিছিল করব।’
সেদিনের আবহাওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় নেতাকর্মীদের জড়ো করাও কঠিন ছিল। তবে রুহুল কবির রিজভী তাকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
নয়নের ভাষায়, ‘বাইরে তুমুল বৃষ্টি, ঈদের দিন। আমি বললাম—বাইরে তুমুল বৃষ্টি, ঈদের দিন। নেতাকর্মীদের পাওয়া খুব দুষ্কর হবে। রিজভী ভাই বললেন—‘নয়ন, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা ঝড়-বৃষ্টি, আঁধার রাতে সব সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্লোগানে প্রমাণ করেছি, আমরা সর্বদা থাকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে।’
এরপর নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্রুত পল্টন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই মিছিল করার কথা জানান তিনি। মিছিল শেষে পার্টি অফিসের সামনে রাজপথে বসে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য শোনার স্মৃতিও তুলে ধরেন।
নয়নের দাবি, বর্তমানে রুহুল কবির রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় বিষয়টি তার জন্য আনন্দ ও আবেগের। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের রিজভী ভাই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বড় খুশির, আবেগের।’
তবে দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন এবং যারা ছিলেন না—তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন যুবদল নেতা। তিনি লেখেন, ‘তখন রিজভী ভাই রাজপথে অনেককে ডেকে পাননি। যাদের পাননি, তারা এখন ক্ষমতার অলিন্দে সর্বত্র। আবার যারা তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে, ঈদের আনন্দ নিরানন্দ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে ছুটে গিয়েছিল, তারা এখন দলের থেকে, ক্ষমতার বৃত্ত থেকে বহু দূরে ছিটকে গেছেন। কেউ কেউ অভিমান করে রাজনীতি থেকেই দূরে রয়েছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদেরও ত্যাগীদের ইতিহাস দেখার আহ্বান জানান নয়ন। তিনি বলেন, ‘এখন যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলেন, ২৪-এর পর জুলাই যোদ্ধা সেজেছেন, যারা দিনরাত রাজনীতির ভাষায় রাজা-উজির মারেন আর যাকে তাকে ট্যাগ দেন, তারা ছবিটা ভালো করে দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন, ত্যাগীরা দলের দুঃসময়ে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে, কতটা লড়াই-সংগ্রাম করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কতটা দলপাগল হলে বৃষ্টি ও ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে রাজপথে হেঁটেছে। কষ্ট হয় যখন দেখি, সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছেন।’
নয়ন লেখেন, ‘রাজনীতিতে ত্যাগীরা আসলে শ্রমিকের মতো। তারা শরীরের ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করে পণ্য উৎপাদন করে, কিন্তু সেই পণ্যে তাদের কোনো অধিকার থাকে না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ত্যাগীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে আর সুবিধা ভোগ করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স