নোনা পানি শোধন করে পাইপলাইনে সরবরাহের পরিকল্পনায় সরকার: শাহে আলম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-০৮-২০২৬ ০২:২২:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৮-২০২৬ ০২:২২:২৬ অপরাহ্ন
সরকার লবণাক্ত পানি শোধন করে পাইপলাইনে সারা দেশে সরবরাহের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি শহরের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা যাবে। সেখানে ঢাকা শহরে আমরা ৭৪ শতাংশ উত্তোলন করছি। আর উপরিভাগের পানি (সারফেস ওয়াটার) মাত্র ২৪ শতাংশ। এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের আঘাত আনবে। ভূমিকম্প হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যাবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো স্যালাইন ওয়াটারকে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সরবরাহের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
‘সমুদ্রের উপরিভাগ বা নদী গিয়ে যেখানে মিলিত হয়েছে, চাঁদপুর ও মোংলায় দুটি পয়েন্টে বড় ধরনের প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন,’ বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্প দুটির ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হয়েছে এবং এডিবি এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
‘গ্যাস বা বিদ্যুৎ যে রকম জাতীয় গ্রিড থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আমরা এই পানি দেশের প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবো। গ্যাস যদি দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে পানিও সারা দেশে (সরবরাহ করা) অসম্ভব কিছুই হবে না,’ সরকারের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
শাহে আলম জানান, ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ৩ কোটি ২৫ লাখ লিটার। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগ মিলিয়ে ওয়াসা সরবরাহ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫ লাখ লিটার পর্যন্ত। প্রতিদিনই আমাদের কিছু ঘাটতি থেকে যায়।
তিনি জানান, এই ঘাটতি পূরণ এবং ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে গন্ধর্বপুর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিগগির (নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার) প্রকল্পটি চালু হবে। এটি চালু হলে মেঘনা থেকে প্রতিদিন ঢাকায় আমরা ৫০ কোটি লিটার পানি পাব।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সায়েদাবাদ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প। আমরা শোধনাগার নির্মাণ করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে মেঘনা থেকে ৯৫ কোটি লিটার পানি নিয়ে আসব। এই ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করব।
শেষ পর্যায়ের কাজে ডেনমার্ক সরকার বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ। মাত্র দেড় থেকে ২ শতাংশ সুদ হারে কাজ শেষ হওয়ার পরবর্তী ২০ বছরে শোধ করতে হবে।
‘ফলে সরকারের ওপর খুব একটা চাপ হবে না। আমরা এটা গ্রহণ করেছি এবং আমরা উনাদের সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছি।’
এর বাইরেও ডেনমার্ক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, ওয়াটার সাপ্লাই ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাহায্য করছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।’
‘আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করেন। বিশেষ করে সরাসরি ওয়েস্ট টু এনার্জিতে বিনিয়োগ করতে বলেছি। উনারা বলেছেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখবেন যে তারা কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারেন।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স