গণপূর্তের কাঠের কারখানার
শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঢাকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চেয়ারে বসার মরিয়া চেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুলের
লিটন আলী
আপলোড সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০২:১৫:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০২:১৫:৩৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতি, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং মালামাল না বুঝে নিয়েই ভুতুড়ে বিল পরিশোধের অভিযোগে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক বদলি (Stand Release) করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনা জেলায় বদলি করে।
** দুর্নীতির মূল অভিযোগসমূহ: ১০০ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল সংস্কার ও শয্যা উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র কেনার নিয়ম ছিল 'গুডস' বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। কিন্তু প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম পিপিআর (PPR) বা সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করে তা 'ওয়ার্কস' বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে আহ্বান করেন।
উদ্দেশ্য ছিল নিজের পছন্দের ও লাইসেন্সবিহীন কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ২২টি কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া।২. পণ্য ছাড়াই ৪ কোটি টাকার বিল পাস: জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কোনো আসবাবপত্র সরবরাহ বা বুঝে না নিয়েই, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ২ দিনের মাথায় ঠিকাদারকে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি টাকার ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করেন তিনি।
বদলি ও বর্তমান পরিস্থিতি:এই দুর্নীতির খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হলে মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনায় বদলি করে দেয়। পাবনায় দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পেও পদায়িত হন। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটির অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স