ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদের বিশেষ স্নেহধন্য সওজের আবু হেনা তারেক ইকবাল এখন নব্য জাতীয়তাবাদী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:০৫:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:০৫:২৬ অপরাহ্ন
ওবায়দুল কাদের বিশেষ স্নেহধন্য সওজের  আবু হেনা  তারেক ইকবাল এখন নব্য জাতীয়তাবাদী
নিজস্ব প্রতিবেদক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক উন্নয়ন দাবি করা হলেও, ২০২৪ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা অনুযায়ী এ খাতে ২৯ হাজার ২৩০ থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে ১২ বছরই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) দায়িত্বে ছিলেন ওবায়দুল কাদের এবং তার ছত্রছায়ায় অনুগত শিষ্যরা করেছেন ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি।২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রা রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে নিজেদের তকমা লাগিয়ে আছেন বহাল তবিয়তে যাদের অধিকাংশ কর্মকর্তার অতীত আমলনামা ছিল ভয়াবহ দুর্নীতির গল্পকথায়। যারা বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অনিয়ম দুর্নীতি টেন্ডার কমিশন বাণিজ্য করে শূন্য থেকে বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার মালিক। সওজের কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা তারেক ইকবাল কে নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার তৎকালীন অন্তবর্তী কালীন সরকারের উপদেষ্টা বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে সংবাদ তবে এসব অভিযোগ প্রকাশিত সংবাদে তিনি বিচলিত নন বিষয়টা এমন কারন সে অভিযোগগুলো আলোর মুখ দেখেনি এবং তিনি তার স্বপদে আছেন বহাল। তবে সম্প্রীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে সওজের একজন ঠিকাদার গণমাধ্যম বরাবর একটি অভিযোগ পাঠিয়েছেন আবু হেনা তারেক ইকবালের বিরুদ্ধে যেখানে প্রধান শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরের বিশেষ স্নেহধন্য আবু হেনা তারেক ইকবাল এখন নব্য জাতীয়তাবাদী। এবং তার অতীত রাজনৈতিক প্রভাব ক্ষমতা বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ফেনী দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মোমারিজপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আবু হেনা তারেক ইকবাল ১৯৯৯ সালে ১৮ তম বিসিএস সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। কুমিল্লা সড়ক জনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মোঃ তারেক ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা রয়েছে: সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘুষ দুর্নীতি টেন্ডার কমিশন বদলি বাণিজ্য সহ অভিযোগের পাহাড় তার বিরুদ্ধে। কর্মজীবনের দীর্ঘ ২৭ বছরে যখন যেই সরকার এসেছে সেই সরকারের লোকজনের সঙ্গে গভীর সখ্যতা তৈরি করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তবে সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আওয়ামী লীগের একাধিক এমপি মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠ সখ্যতা এবং সেই সুযোগ কাজের লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পোস্টিং নিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে চাকুরিতে যোগদানের সময় থেকে ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী আইইবি নেতা। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রীর এলাকা চকরিয়া সড়ক উপ বিভাগে তদবির করে পোস্টিং নিয়েছিলেন। এবং নিজেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী হিসাবে প্রমাণ করতে বিভিন্ন ছল ছাতুরির আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে আবারও বিভিন্ন তদবির করে ঢাকা সড়ক বিভাগের অধীনে কল্যাণপুর সড়ক উপবিভাগে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের সরকারের আমলে ঢাকা আশুলিয়া টোলের টাকা আত্মসাৎ এর দায়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রচার করেছিলেন আওয়ামী পন্থী প্রকৌশলী হওয়ার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নিজেকে কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হিসাবে প্রচার করেন। ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুনভাবে আওয়ামী ঘরানার হিসেবে আবিষ্কার করেন এবং নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পোস্টিং নিয়ে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে ওবায়দুল কাদেরের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করে। ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইশ্রাতুন্নেসা কাদেরের কাছে পৌঁছে দিতেন বিভিন্ন উপহার উপঢৌকন এবং এই কারণেই খুব দ্রুত ওবায়দুল কাদেরের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গেও ছিল ঘনিষ্ঠ সখ্যতা। ঢাকা সার্কেলের অধীন মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পোস্টিং নেন তদবির করে। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অনিয়ম দুর্নীতি কমিশন ঠিকাদার বাণিজ্য সহ একের পর এক অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে কিন্তু শাস্তির বদলে উল্টো পেয়েছেন পদোন্নতি কারণ তিনি ছিলেন ওয়াদুল কাদেরের বিশ্বস্ত হাতিয়ার। ওবায়দুল কাদেরের কাছের লোক হওয়ার সুবাদে পদোন্নতি পেয়ে যান চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে । আওয়ামী লীগের তদবির করে আবারো বাগিয়ে নেন পদোন্নতি। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রমোশন পেয়ে বরিশাল সড়ক জোনে যোগদান করেন এবং বরিশালের মেয়র হাসনাত আব্দুল্লার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা তৈরি করে হয়ে যান আরো প্রভাবশালী। সেখান থেকে আবার কুমিল্লা সড়ক জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। ওবায়দুল কাদেরের অতি আস্থাভাজন হওয়ার কারণে তার ক্ষমতা ও দাপট ছিল অপরিসীম। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৮ বিসিএস এর অনেক কর্মকর্তা অবসরের শেষ প্রান্তে এসেও কোন পদোন্নতি নিতে পারেননি। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়ার কারণেই তিনি পেয়েছেন একের পর এক পদোন্নতি। ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতি করা অনেক কর্মকর্তার চাইতে তিনি অনেক ভাল ভাল পোস্টিং ও সর্বাধিক সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। অনেক আওয়ামী পন্থী কর্মকর্তা নাখোশ থাকলেও তার দাপটের কারণে কেউ প্রতিবাদ করত না। লোকাল এমপি মন্ত্রীদের প্রভাবে জড়িয়ে পড়েন টেন্ডার বাণিজ্যে। তার কর্মস্থলে টেন্ডার বাণিজ্য ছিল ওপেন সিক্রেট এবং ইজিপি টেন্ডার এর যুগেও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ভয়ে ঠিক মত অফিস করেননি। অভিযোগ আছে ৫ ই আগস্টের পরে কয়েকজন রাজনীতিবিদ কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজের সকল অপকর্ম ধামাচাপা দিয়েছেন। এবং স্বৈরাচারের দোসর হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি এখন জাতীয়তাবাদী আদর্শের নব্য অনুসারী হয়ে গেছেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে তার কাছের লোক হিসাবে নিজেকে প্রচার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি পন্থী অধিকাংশ কর্মকর্তা ছিলেন নানা চাপে এবং অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পাননি কোন পদোন্নতি, তিনি যদি বিএনপিপন্থী হতেন তাহলে একের পর এক পদোন্নতির পাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না। বিএনপি সরকারের ওই প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সড়ক জোন-এ পদায়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা করেছিলেন তবে তিনি সফল হননি। আওয়ামী সরকারের পুরো সময় জুড়ে সড়কের পক্ষথেকে মন্ত্রী-এমপিদের সর্বোচ্চ প্রটোকল দেয়ার প্রথম সারিতে ছিলেন সবুজ উদ্দিন খাঁন ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল। অভিযোগ পত্রে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চক্রের প্রভাবশালী এই সদস্যের তার কর্ম জীবনের প্রতিটা কর্মস্থলে সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে তার নানা অনিয়ম দুর্নীতির গল্প যেহেতু ২০২৯ সালে তিনি অবসরে যাবেন তাই এর আগেই স্বৈরাচারের এই দোসরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের বেশ কিছুদিন পরে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পূর্ববর্তী সচিব বরাবর আবু হেনা মোহাম্মদ তারেক ইকবাল এর জন্য চট্টগ্রাম সড়ক জোনে পদায়নের জন্য সুপারিশ করেছিলেন কিন্তু একাধিক ঠিকাদার ও সড়কের বেশ কিছু বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা প্রতিবাদের মুখে তার পদায়ন আর হয়নি। অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয় রাজউকের সবচেয়ে বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান নুরুল হুদার চাচা পরিচয় দিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অভিযোগ আছে রাজধানীতে কয়েকটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কমিশন টেন্ডার বাণিজ্য করে অবৈধ অর্থে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে রাজধানীতে তার একাধিক প্লট ফ্লাট ব্যক্তিগত দামী গাড়ি সহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর উল্লেখ করা হয়েছে তার অধিকাংশ সম্পদ সরকারের আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি তার টিন সার্টিফিকেট ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এনআইডি কার্ড দিয়ে তথ্য যাচাই করলেই অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী ফারজানা রহমান ভূঁইয়া সন্তান ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামি ক্রয় করেছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ১/১২ পার্ক ভিউ বাড়ির ফ্ল্যাট এ/১ এই ফ্ল্যাট টির মালিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মোঃ তারেক ইকবাল এ ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা তবে এটি তিনি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি বসবাস করেন রাজধানীর গুলশানে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী ফারজানা রহমান ভূঁইয়া সন্তান ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মোঃ তারেক ইকবালের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি উত্তর দেন আমাকে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ