ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে নানা অভিযোগ পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা, প্রশাসনের নজরদারি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ১১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ১১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন
বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে নানা অভিযোগ পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা, প্রশাসনের নজরদারি দাবি
রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিলছড়ি হাজীর টেক এলাকায় অবস্থিত বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। পর্যটনকেন্দ্রটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। এতে সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীদের পরিচয় ও অবস্থানের উদ্দেশ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের নাম-পরিচয় রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, পর্যটনকেন্দ্রে কে আসছেন, কতক্ষণ অবস্থান করছেন এবং কী উদ্দেশ্যে আসছেন এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্রের পরিচালনার সঙ্গে রুবায়েত নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় পর্যটনকেন্দ্রটির সামনে নৌকা সাজিয়ে রাখতেও তাকে দেখা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও পর্যটনকেন্দ্র পরিচালনায় বর্তমান ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা গেছে, পর্যটনকেন্দ্রটির কেয়ারটেকার হিসেবে মো. জয়নাল আবেদীন (প্রায় ৫৭) ও মনসুর (প্রায় ২৮) নামে দুই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে পাহাড়ি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি শ্মশান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংবেদনশীল একটি স্থানের পাশে পর্যটনকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেখানে দর্শনার্থীদের অবাধ যাতায়াতের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। পর্যটনকেন্দ্রটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ কথা বলতে গেলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি কিংবা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের মতে, পর্যটনকেন্দ্র একটি এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের নিরাপদ বিনোদন ও অবকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু কোনো পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বারবার সামনে এলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো এলাকার পর্যটন খাতের ওপর পড়তে পারে। এতে পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ কারণে বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীদের পরিচয় যাচাই, বাধ্যতামূলক রেজিস্টার সংরক্ষণ, প্রবেশ ও অবস্থানের তথ্য নথিভুক্তকরণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃত পর্যটন কার্যক্রমকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কাপ্তাইয়ের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলো নিয়ে মানুষের আস্থাও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ