ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুফিপন্থীদের ঐক্য জোরদারের আহ্বান

ঢাকায় প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখের সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ১০:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ১০:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন
ঢাকায় প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখের সম্মেলন
জাহিদুল আলম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং পাকিস্তান, ভারত, ইরান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিসহ প্রায় তিন হাজার পীর-মাশায়েখ ও সুফি অনুসারীর অংশগ্রহণে রাজধানী ঢাকায় পীর-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবার, খানকা শরীফ ও সুফি তরিকার পীর-মাশায়েখরা অংশ নেন। সম্মেলন থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ‘এক দরবার সমস্যায় পড়লে অন্যদের পাশে দাঁড়াতে হবে’ সম্মেলনে সুফিপন্থীদের পারস্পরিক সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা। তিনি বলেন, কোনো একটি দরবার বা খানকা শরীফ কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে অন্য দরবারের পীর-মাশায়েখ ও অনুসারীদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, “পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।” ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। দেওয়ানবাগ শরীফকে ঘিরে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা সরাসরি দরবারে এসে এর কার্যক্রম দেখে যেতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোনো কার্যক্রম চলে না।” ‘সম্মেলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই’ পীর-মাশায়েখ ও তরিকাপন্থীদের এই সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলেও উল্লেখ করেন ইমাম কুদরত এ খোদা। তিনি বলেন, “তরিকাপন্থীরা একত্রিত হয়েছে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবেসে।” সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া পীর-মাশায়েখরা বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিভাজন অতিক্রম করে সুফি অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার উদ্যোগের জন্য তারা ইমাম কুদরত এ খোদাকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বলেন, তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সুফি অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্যের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের বক্তব্য ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী রা’দ ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন পালনের বিরোধিতা করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করেন। ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন দরবারের পীর-মাশায়েখদের অংশগ্রহণ সম্মেলনে বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি ও কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফসহ বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবারের পীর-মাশায়েখ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনের বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও ভালোবাসার বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুফি তরিকার অনুসারীদের পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ