রাজউকের পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০২:০১:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০২:০১:২৮ অপরাহ্ন
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নোটিশ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করতে যাওয়া এক অভিযোগের নথিপত্র থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম জনস্বার্থে এই অভিযোগটি দুদকে জমা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব পদে রাজউকে যোগদান করেন দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হামিদুল ইসলাম। ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। আগামী ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল এবং ২০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে দুদকে পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছিল।
নোটিশ ও বদলি বাণিজ্য:
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তার অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এলাকা ঠিক করে দিতেন এবং পরবর্তীতে মাসিক পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন। তার নির্দেশে পরিদর্শকরা নিয়মবহির্ভূত ভবনের মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখাতেন এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেসব নোটিশ গায়েব করে দিতেন। নিউ এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ নম্বরের মালিক কামরুল হাসানের ভবনে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে হোল্ডিং-৮২ নম্বরের মালিকের কাছে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে অনিয়ম চাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালাচ্ছেন।
চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ:
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন তিনি। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে এই টাকা দিলেও তারা চাকরি পাননি, এমনকি টাকাও ফেরত পাননি।
অঢেল অবৈধ সম্পদ:
রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসা গ্রামের সন্তান হামিদুল ইসলামের ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে তিনি গ্রামের বাড়ি রংপুর ও শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষি ও অকৃষি জমি ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যার বৈধ উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারবেন না।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানার জন্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের টেলিফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স