গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ
আপলোড সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৫৪:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৫৯:১৬ অপরাহ্ন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে ঢাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসাসহ ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি সরকারি বরাদ্দের বড় একটি অংশ পকেটে পুরেছেন বলে তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুর রহমান সবচেয়ে বেশি অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়ে তিনি আজিমপুর বিভাগে নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট প্রথা চালু করেন, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি ফাইলে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ কমিশন না দিলে সাইফুর রহমান কোনো বিলে স্বাক্ষর করতেন না। এছাড়াও আজিমপুরে অবস্থানকালে এক নারী হিসাব সহকারীকে ঘিরেও তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের তালিকায় আরো রয়েছে কুখ্যাত ঠিকাদার জিকে শামীম ও গোল্ডেন মনিরের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। এমনকি গুলশানের রেডিসন ও ওয়েস্টিন হোটেলে তাদের অর্থায়নে আয়োজিত বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত গণহত্যায় আওয়ামী লীগের পক্ষে নেপথ্যে তিনি অর্থ যোগান দিয়েছিলেন বলেও জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
নামে-বেনামে রূপকথার মতো সম্পদের পাহাড়: সরকারি চাকরির সুবাদে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও ঘুষ-কমিশনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সাইফুর রহমান দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
রাজধানীতে আবাসন: ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে দুটি বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি এবং পূর্বাচল নতুন শহরে মূল্যবান প্লট।
টাঙ্গাইলে বিশাল সাম্রাজ্য: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সুবিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি, বাজার রোডে ৩ তলা বাণিজ্যিক মার্কেট (যাকে তিনি ভাইদের সম্পদ বলে দাবি করেন), ঘাটাইলে সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ে পূর্বে স্থাপিত এলপিজি ফিলিং স্টেশন (যা বর্তমানে ভেঙ্গে সোনার তরী পার্ক তৈরি করা হয়েছে) এবং এর কাছেই কোটি টাকা মূল্যের জমিতে গড়ে তোলা কাঠবাদাম রেস্টুরেন্ট।
বিদেশে অঢেল সম্পদ: যুক্তরাষ্ট্রে তার মেয়ের নামে কেনা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে তার বর্তমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য অর্ধশতাধিক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী সাইফুর রহমানকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জনস্বার্থে এই কর্মকর্তার সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধানী তথ্য ধারাবাহিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স