ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৪:১১:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৪:১১:৪৭ অপরাহ্ন
ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা



কুমিল্লার বাঙ্গরা এলাকায় ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী।


শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নাই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

স্বজনেরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এই যুবলীগ নেতা। শনিবার রাতে তিনি গোপনে বাড়িতে আসেন। গভীর রাতে এলাকায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং হয়। এর পরপরই একদল লোক আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়।

নিহতের ভাই জালাল হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আনোয়ারকে এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তারা। এ সময় ফিরোজ মেম্বারের ছেলে আনোয়ার, একই এলাকার পিন্টু, হাসান ও জালাল তার ভাইয়ের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার স্ত্রীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তার ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্যও ছিল আনোয়ারের দখলে


২০২৩ সালে ড্রেজারের অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলা করেন আনোয়ার ও তার বাহিনী। তখন তিনি রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।

আওয়ামী সরকারের পতনের পর আনোয়ার মেম্বার আর বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ