ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস ও প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির ঘটনায় তদন্তে ইউএনও

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৩:২০:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৩:২০:৫৮ অপরাহ্ন
অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস ও প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির ঘটনায় তদন্তে ইউএনও



পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অফিস সহকারীকে দিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ানো এবং প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীৎ সাহা। প্রকাশিত দুটি সংবাদ আমলে নিয়ে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইউএনও স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।


অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বার্তা বাজার অনলাইন পত্রিকায় ‘শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অফিসের কাজ ছেড়ে নিয়মিত ক্লাস নেন অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়’ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর সময়ের কণ্ঠস্বর অনলাইন পত্রিকায় ‘সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের খেয়ালখুশির ছুটি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রশাসনের নজরে আসায় সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক গোপাল চন্দ্র রায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনেও তার নামে সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এরপরও অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়কে দিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। গোপাল চন্দ্র রায়ের দাবি, ২০২০ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সংকটের কারণে তিনি ক্লাস নিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলমকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষক কমন রুমে থাকা সহকারী শিক্ষকরাও জানান, ওইদিন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। পরে তার হাজিরা খাতায়ও ওই দিনের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।


প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষক ছুটির বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।


তবে প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম দাবি করেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নেই। ইউএনওকে ফোন করলেও তিনি ধরেন না। প্রয়োজন হলে প্রধান শিক্ষকরা ছুটিতে থাকতে পারেন এবং পরে সভাপতি বা ইউএনওকে জানানো যায়।

অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এর আগে দাবি করেছিলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে গোপাল চন্দ্র রায়কে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। হিন্দুধর্মের একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর তার পরিবর্তে অফিস সহকারী ক্লাস নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ