ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ কোটি টাকার যন্ত্র আছে, ব্যবহার খুবই সীমিত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১২:০৫:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১২:০৫:০৩ অপরাহ্ন
৩০ কোটি টাকার যন্ত্র আছে, ব্যবহার খুবই সীমিত



উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ২৬টি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে সেখানে। তবে প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থের অভাবে কেন্দ্রটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এত বড় গবেষণা অবকাঠামো থাকলেও সেখানে সরাসরি হাতে-কলমে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ বেশ সীমিত।

গবেষণা কেন্দ্রটিতে রয়েছে সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ও পাউডার এক্স-রে ডিফ্রমেশন (এক্সআরডি), নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (এনএমআর), হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (এইচপিসিএল), গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি (জিসি), আরটি-পিসিআর, প্রোটিন পিউরিফিকেশন সিস্টেম, সাইটোফ্লোমেট্রি, এলিমেন্টাল অ্যানালাইজার, মাইক্রোস্কোপ ও আলট্রাসেন্ট্রিফিউজসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে রাসায়নিক ও জীববৈজ্ঞানিক নমুনা বিশ্লেষণ, স্ফটিকের গঠন নির্ণয়, ওষুধ ও বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা এবং নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা সম্ভব।
.
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ও বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এই উচ্চ সক্ষমতার যন্ত্রগুলো থেকে নিয়মিত সেবা নিয়ে থাকেন। তবে বিপুল এই গবেষণা অবকাঠামোর বিপরীতে কেন্দ্রটির কারিগরি জনবল প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ১৯টি কারিগরি পদের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন রয়েছে মাত্র চারটির। এর মধ্যে একজন শিক্ষা ছুটিতে থাকায় বর্তমানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। শুধু জনবল নয়, অর্থসংকটও কেন্দ্রটির কার্যক্রমের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গবেষণাগার পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, রাসায়নিক এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনতে বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩০ লাখ টাকা। বাজেট সংকটের কারণে ৬ কোটি টাকা মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছর এখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা লাগে। যন্ত্রাংশ, কেমিক্যালস এবং ওয়ান-টাইম ইউজের ছোট ছোট পার্টসের জন্য এই অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু এ খাতে আমাদের বাজেট খুবই অপ্রতুল।

তিনি আরো জানান, কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি (জিসি-এমএস) সংযোজনের জন্য ইউজিসির কাছে আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সরাসরি যুক্ত করতে পাঁচটি প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালযয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যাতে সেখানে আরো বেশি করে গবেষণা করতে পারে এবং জায়গাটি তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, সেই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণাকাজে সংযুক্ত করা এবং সহকারী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিও আমরা সম্ভাব্যতা যাচাই করছি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ