টেককানেক্ট সম্মেলনে বক্তারা
আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৫:১৮:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৫:১৮:৪৫ অপরাহ্ন
ডিজিটাল অবকাঠামো, উচ্চগতির সংযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভবিষ্যৎ রূপরেখা সামনে রেখে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি হলে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে তিনটি সেশনে আলোচনা হয়। এতে আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সংযোগের মান, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এআই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। কেবল ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত হবে না; এর সুফল পেতে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ডিভাইস, ব্যবহারোপযোগী ডেটা প্যাকেজ এবং বাংলা ভাষায় ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
একজন শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে অনলাইন ক্লাস করতে পারছেন কি না, একজন রোগী প্রয়োজনীয় রেফারেল পাচ্ছেন কি না কিংবা গ্রামের একজন উদ্যোক্তা ভোগান্তি ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন কি না—এসব বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সংযোগের কার্যকারিতা পরিমাপ করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগসহনশীল রাউটার, নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ বিদ্যুৎ এবং দ্রুত নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত জরুরি দল গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক (৫জি) এবং ভবিষ্যতের ষষ্ঠ প্রজন্মের (৬জি) প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, যৌক্তিক ব্যয়, বাস্তব চাহিদা ও দেশের প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে সরকার। সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই তিনটিকে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ব্রডব্যান্ড এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ও ডেটা সক্ষমতা, দক্ষ জনবল এবং গবেষণার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
টেলিকম সচিব ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতায় বৈশ্বিক গড়ের ব্যবধান কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ এবং মানুষের জীবনে সেই সংযোগের অর্থপূর্ণ ব্যবহারের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। তিনি ডিজিটাল রূপান্তরের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের নীতিগত ভূমিকা ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া সরকারের পাঁচটি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে জানান, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এআই নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বাংলা ভাষাবান্ধব এআই এবং সাইবার সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে আইসিটি বিভাগ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দা আফরোজ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স