ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট ঢাকা ওয়াসায়

লিটন আলী
আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন
ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট ঢাকা ওয়াসায়


আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির পানি সরবরাহের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং দাবি করা টাকা না পেলে পুনরায় বেশি হারে বিল চাপিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওয়াসার একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়া ও নেতৃত্বে এসব অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সহযোগী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর কম্পিউটার অপারেটর মাহাদীর নামও এসেছে।

এক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিজ্ঞতায় এ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকা পানির সংযোগ আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আবাসিক শ্রেণিতে বিল আসতে শুরু করে। তবে কোনো আবেদন ছাড়াই আগস্ট মাসে সংযোগটি আবার বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে পুনরায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, আগের সব বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ হলে রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে বিলিং ক্যাটাগরি।


ওয়াসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিং সহকারী জানান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের চুক্তিতে যান। সেই চুক্তি অনুযায়ী সংগৃহীত অর্থ সিআরওর মনোনীত রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অর্থ পাওয়ার পর সিআরওর নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়। দিন শেষে লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান ওই বিলিং সহকারী।

ওয়াসার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা।

এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন অনিয়মের সব অভিযোগ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ