প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রস্তুতি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-১১-২০২৬ ১২:৩২:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-১১-২০২৬ ১২:৩২:১৪ অপরাহ্ন
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীসহ খুলনাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তবে বরাবরের মতো তোরণ, ব্যানার কিংবা প্লাকার্ড দিয়ে শহর ঢেকে ফেলার প্রথা ভেঙে এবার ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার পরিবর্তে পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত কাজ করছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্মরণীয় করে রাখতে মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন চলছে দফায় দফায় সভা, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। নেতাদের মূল লক্ষ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ না করে পুরো পথজুড়ে শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন। মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা শহর শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নই করা হচ্ছে না, সুন্দরভাবে সাজানোও হচ্ছে। সাজসজ্জার নগরী গড়ে তোলা হয়েছে। দেশবাসী খুলনা শহরের নতুন চেহারা দেখবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরকে সাজানো হয়েছে। ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে এই অনুষ্ঠান নিয়ে আনন্দ বিরাজ করছে। খুলনার ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী আসছেন— এতে তারা আনন্দিত। খুলনাবাসী দেখবে, প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, খুলনা নব সাজে সেজেছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের এবং আনন্দের একটি বিষয়। খুলনাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সফল ও সার্থক করতে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর খুলনা থেকে সারাদেশে একযোগে উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার খুলনায় দ্বিতীয়বারের মতো সফর করবেন। তিনি যত বেশি খুলনায় সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন তত বেশি ত্বরান্বিত হবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার বইবে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানার দিয়ে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার যে বার্তা নেতাকর্মীরা দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী বলেন, আমরা খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি, কখন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় পদার্পণ করবেন। আমরা কাছ থেকে হোক আর দূর থেকে একনজর তাকে দেখে মনের আকুতি পূরণ করব।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন প্রসঙ্গে জানা গেছে, আগামী ৫ নভেম্বর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী নিবন্ধন করেছেন। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই বিশাল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স