বিশেষ প্রতিনিধি :মাহফুজুর রহমান
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাবর রোড এলাকায় রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে মোঃ রাকিব হোসেন বিশাল (২৭) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। গত ২৭ ডিসেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৫:৫০ মিনিটে বাবর রোডের জহুরী মহল্লায় মিনার মসজিদের পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় ২৪ জন নামীয় এবং আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ১ ও ২ নম্বর আসামিকে ধারালো অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রাকিব হোসেন বিশালের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। গত ১০ ডিসেম্বর এই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়, যা নিয়ে আদাবর থানায় একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাকিব নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তার ওপর আসা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও সামুরাই নিয়ে তার পথরোধ করে। প্রতিবাদ করলে ১নং আসামি মোঃ নাঈম এবং ২নং আসামি মোঃ রাজিবসহ অন্যান্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। আসামিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিশালের মাথার খুলির হাড় কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলার সময় আসামিরা বিশালের সাথে থাকা দামী মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলা চলাকালীন ওই এলাকায় মোহাম্মদপুর থানার একটি টহল দল উপস্থিত হলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা সামুরাইসহ মো: নাঈম (২৩) ও মো: রাজিব (১৯)-কে আটক করে। তবে বাকি আসামিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আহত রাকিব হোসেন বিশাল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে মহিউদ্দিন ওরফে কাইল্লা জহির, রাসেল মিয়া, হেলাল আহমেদ রাজুসহ আরও অনেকে পলাতক রয়েছেন।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।